এম,এ রাশেদ,স্টাফ রিপোর্টারঃ বগুড়ার ধুনট উপজেলায় গভীর রাতে দুর্বৃত্তদের দেওয়া আগুনে একটি কৃষি উপকরণ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এ ঘটনায় নগদ অর্থ, কীটনাশক, সার-বীজসহ প্রায় ২৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী। আগুনে কোনো হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সবকিছু হারিয়ে মানবেতর অবস্থায় পড়েছেন তিনি।
এ ঘটনায় বুধবার (১০ জুন ২০২৬) ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী সুমন সেখ মিল্টন বাদী হয়ে ধুনট থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে নির্দিষ্ট কোনো আসামির নাম উল্লেখ করা হয়নি। এর আগে মঙ্গলবার দিবাগত রাত ৩টা থেকে ৪টার মধ্যে উপজেলার মথুরাপুর বাজার এলাকায় এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। সুমন সেখ মিল্টন একই এলাকার শ্যামগাঁতী গ্রামের আব্দুল আজিজের ছেলে।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, সুমন সেখ মিল্টন প্রায় আট বছর ধরে মথুরাপুর বাজারে ‘মেসার্স ভাই ভাই ক্যামিক্যালস’ নামে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। তার প্রতিষ্ঠানে কৃষি কাজে ব্যবহৃত কীটনাশক, সার ও বীজ বিক্রি করা হতো। প্রতিদিনের মতো মঙ্গলবার রাতেও দোকান বন্ধ করে তিনি বাড়িতে চলে যান। দোকানে কোনো নৈশপ্রহরী না থাকায় গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা আগুন ধরিয়ে দেয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাতের শেষ প্রহরে দোকান থেকে আগুনের লেলিহান শিখা ও ধোঁয়া বের হতে দেখে স্থানীয়রা ছুটে আসেন। তারা তাৎক্ষণিকভাবে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। তবে ততক্ষণে দোকানের ভেতরে থাকা অধিকাংশ মালামাল পুড়ে যায়। পরে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী সুমন সেখ মিল্টন বলেন, “দীর্ঘদিনের কষ্টার্জিত পুঁজি দিয়ে ব্যবসা গড়ে তুলেছিলাম। এর আগে আমার দোকানে দুইবার চুরির ঘটনা ঘটেছে। এবার আগুনে সব শেষ হয়ে গেল। কৃষি ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করছিলাম। এখন দোকানের পোড়া মালামাল ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। পরিবার-পরিজন নিয়ে কীভাবে চলব, তা ভেবে দিশেহারা হয়ে পড়েছি।”
এ ঘটনায় বাজারের ব্যবসায়ীদের মধ্যেও উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। তারা দ্রুত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীকে সরকারি বা বেসরকারি সহায়তা প্রদানেরও আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
ধুনট ফায়ার সার্ভিসের টিম লিডার জহুরুল ইসলাম বলেন, “খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। আগুনের সূত্রপাত ও ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ নির্ধারণে তদন্ত চলছে।”
ধুনট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আতিকুল ইসলাম বলেন, “ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীর লিখিত অভিযোগ সাধারণ ডায়েরি হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘটনাটির প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয়দের ধারণা, এটি পরিকল্পিত নাশকতার ঘটনা হতে পারে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।

