এম.এ রাশেদ,স্টাফ রিপোর্টারঃ বগুড়ার ধুনট উপজেলায় আমলযোগ্য অপরাধ সংঘটনের প্রস্তুতি নেওয়ার সন্দেহে মো. ফিরোজ আলম (২৭) নামে এক যুবককে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারায় গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ধুনট থানা পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২২ আগস্ট রাত সাড়ে ২টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে ধুনট থানা পুলিশ জানতে পারে, উপজেলার গোপালনগর ইউনিয়নের চকমেহেদী বাজার এলাকায় এক ব্যক্তি সন্দেহজনকভাবে অবস্থান করছেন। স্থানীয় লোকজন ওই ব্যক্তিকে আটক করে রেখেছেন – এমন খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়।
পুলিশের প্রতিবেদনে বলা হয়, রাত ৩টা ৫ মিনিটের দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে স্থানীয় লোকজন আটক ব্যক্তিকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। পরে জিজ্ঞাসাবাদে ওই ব্যক্তি নিজের নাম ফিরোজ আলম বলে পরিচয় দেন। তিনি গোপালনগর ইউনিয়নের চকমেহেদী গ্রামের বারু শেখের ছেলে।
পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের সময় ফিরোজ আলমের দেওয়া তথ্য ও বক্তব্য সন্তোষজনক মনে হয়নি। তার কথাবার্তা ও আচরণে অসংগতিও লক্ষ্য করা যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ কারণে তিনি কোনো আমলযোগ্য অপরাধ সংঘটনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বা এতে জড়িত থাকতে পারেন—এমন সন্দেহের সৃষ্টি হয় পুলিশের।
পরিস্থিতি বিবেচনায় সম্ভাব্য আমলযোগ্য অপরাধ প্রতিরোধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করে পুলিশ। পরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে ঘটনাস্থলেই ফিরোজ আলমকে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারায় গ্রেপ্তার করা হয়।
ধুনট থানার এএসআই মো. আনোয়ার হোসেনের দাখিল করা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম-ঠিকানা এবং তার বিরুদ্ধে থাকা পিসি/পিআর-সংক্রান্ত তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। পাশাপাশি ঘটনার বিষয়ে পুলিশের অনুসন্ধান ও তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
এ বিষয়ে ধুনট থানা সেকেন্ড অফিসার (এসআই) মোঃ নজরুল ইসলাম জানান ,আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং সম্ভাব্য অপরাধ প্রতিরোধের অংশ হিসেবে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তবে ফিরোজ আলমের বিরুদ্ধে কোনো নির্দিষ্ট অপরাধ আদালতে প্রমাণিত হয়নি। পুলিশের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা বিষয়গুলো বর্তমানে অভিযোগ ও সন্দেহের পর্যায়ে রয়েছে। আদালতের বিচারিক সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত তাকে আইনগতভাবে অপরাধী হিসেবে গণ্য করা যাবে না।

