এম,এ রাশেদ,স্টাফ রিপোর্টারঃ বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার ঐতিহাসিক মহাস্থানগড় ডাকবাংলো-মাজার সড়কের সংস্কার ও উন্নয়ন কাজে চরম ধীরগতির কারণে স্থানীয় বাসিন্দা, পথচারী এবং যানবাহন চালকদের দুর্ভোগ এখন চরমে পৌঁছেছে। দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির কাজ কার্যত বন্ধ বা অত্যন্ত ধীরগতিতে চলায় প্রতিদিন হাজারো মানুষকে সীমাহীন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, সংস্কার কাজের অংশ হিসেবে রাস্তার ওপর লোহার রড বিছিয়ে রাখা হলেও তা দ্রুত সম্পন্ন করার কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেই। ফলে উন্মুক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা এসব রড এখন জনসাধারণের জন্য এক ভয়াবহ ঝুঁকিতে পরিণত হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, মহাস্থান ডাকবাংলো থেকে মাজারগামী গুরুত্বপূর্ণ সড়কের একটি অংশে বেশ কিছুদিন আগে ঢালাই কাজের প্রস্তুতি হিসেবে লোহার রডের জাল বসানো হয়। কিন্তু এরপর থেকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কোনো কার্যক্রম চোখে পড়ছে না। ফলে রডগুলো মরিচা ধরে সড়কের বিভিন্ন স্থানে বিপজ্জনক অবস্থায় পড়ে রয়েছে। কোথাও কোথাও রড উঁচু হয়ে থাকায় চলাচল আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
দিনের বেলায় কোনো রকম সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করা গেলেও রাতে এই সড়কটি যেন এক মরণফাঁদে পরিণত হয়। পর্যাপ্ত সড়কবাতির অভাব, সতর্কীকরণ সাইনবোর্ড না থাকা এবং রাস্তার একাংশে উন্মুক্ত রড পড়ে থাকায় পথচারীরা প্রায়ই হোঁচট খাচ্ছেন। অনেকেই রডের আঘাতে রক্তাক্ত ও আহত হচ্ছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ থাকায় বৃষ্টির পানির স্রোতে রাস্তার বিভিন্ন অংশের সিসি ঢালাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং অনেক জায়গায় ভাঙন দেখা দিয়েছে।
মহাস্থান মাজার ও ডাকবাংলো বগুড়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয়, ঐতিহাসিক ও পর্যটন কেন্দ্র। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে হাজার হাজার দর্শনার্থী ও ধর্মপ্রাণ মানুষ এখানে আসেন। অথচ এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কের এমন বেহাল অবস্থার কারণে দর্শনার্থীদেরও চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয় ইজিবাইক, অটোরিকশা ও ভ্যানচালকেরা জানান, রাস্তার বর্তমান অবস্থার কারণে তারা নিরাপদে যানবাহন চালাতে পারছেন না। রডের ওপর দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে প্রায়ই ছোট যানবাহনের চাকা পিছলে দুর্ঘটনা ঘটছে। এক মোটরসাইকেল চালক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “কয়েকদিন আগে রাতে বাড়ি ফেরার পথে রাস্তার রডে চাকা পিছলে পড়ে গিয়ে পায়ে গুরুতর আঘাত পেয়েছি। অথচ সেখানে কোনো সতর্কীকরণ চিহ্নও ছিল না।”
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, সড়কের এই দুরবস্থার কারণে তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ক্রেতারা সহজে আসতে পারছেন না, সামান্য বৃষ্টিতেই বালু ও কাদা জমে চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ফলে ব্যবসা-বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “কাজ যদি সময়মতো শেষ করা না যায়, তাহলে পুরো রাস্তা খুঁড়ে এবং রড বিছিয়ে ফেলে রাখার কোনো যৌক্তিকতা নেই। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার বিষয়টি কি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আসছে না? আমরা দ্রুত এই ভোগান্তির অবসান চাই।”
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল অবিলম্বে জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট এলজিইডি (LGED) কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি ও দায়িত্বহীনতার কারণে সাধারণ মানুষের জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে না। দ্রুত উন্মুক্ত রড অপসারণ, প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সংস্কার কাজ সম্পন্ন করে সড়কটি জনসাধারণের চলাচলের উপযোগী করার জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয়দের মতে, বিষয়টি নিয়ে কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই জনস্বার্থে সংশ্লিষ্টদের জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

