বগুড়া প্রতিনিধি:
বগুড়ার শাজাহানপুরে ‘গ্রীন গার্ডেন’ রিসোর্টে চাঞ্চল্যকর ডাকাতির ঘটনায় মূল রহস্য উদ্ঘাটন করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। এ ঘটনায় আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের তিন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে লুণ্ঠিত ৩টি ওয়াল ফ্যান ও ট্রান্সফরমার থেকে বের করা ৪২ কেজি তামার তার উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেফতাররা হলেন—শাজাহানপুরের সরদারপাড়ার মো. আল আমিন (৪১), বগুড়া সদরের পূর্ব গোদারপাড়ার মো. বাবলু প্রাং (৫০) এবং পাবনার বেড়া উপজেলার নাকালিয়ার মো. তামিম হাসান হৃদয় (২৫)।
পুলিশ জানায়, গত ২৯ জুলাই দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে শাজাহানপুরের জামাদারপুকুর এলাকায় ‘গ্রীন হাউজিং অ্যান্ড এনার্জি লিমিটেড’-এর অঙ্গ প্রতিষ্ঠান ‘গ্রীন গার্ডেন’ রিসোর্টে একদল দুর্বৃত্ত হানা দেয়। তারা রিসোর্টের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে কর্তব্যরত গার্ড ও কর্মীদের মারধর এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে হাত-পা বেঁধে রাখে।
পরে ডাকাতরা রিসোর্ট থেকে ২০টি ওয়াল ফ্যান, একটি গ্যাসের চুলা, ১২ ভোল্টের একটি বড় লুকাস ব্যাটারি এবং বাউন্ডারি দেয়ালের পাশের বৈদ্যুতিক পোল থেকে তিনটি ট্রান্সফরমার ভেঙে তামার তার নিয়ে যায়। লুণ্ঠিত মালামালের আনুমানিক মূল্য ৩ লাখ ৭৬ হাজার ৫০০ টাকা।
এ ঘটনায় ১ আগস্ট শাজাহানপুর থানায় মামলা দায়ের করা হয়।
বগুড়া জেলা পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ, পিপিএম-এর সার্বিক দিকনির্দেশনায় এবং ডিবি, বগুড়ার অফিসার ইনচার্জ ইকবাল বাহারের তত্ত্বাবধানে এসআই ফজলুল হকের নেতৃত্বে ডিবির একটি দল ১১ আগস্ট ভোর ৩টা ৪৫ মিনিট থেকে শেরপুর, শাজাহানপুর ও বগুড়া সদর এলাকায় অভিযান চালায়।
অভিযানে প্রথমে শাজাহানপুর থেকে আল আমিনকে গ্রেফতার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পূর্ব গোদারপাড়া থেকে বাবলু প্রাংকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার শয়নকক্ষ থেকে তিনটি পুরোনো সাদা রঙের ওয়াল ফ্যান উদ্ধার করা হয়।
পরবর্তীতে বাবলুর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সদর উপজেলার মাটিডালী বিমান মোড় এলাকার ‘মানসুরা স্টোর’ নামের ভাঙারি দোকানে অভিযান চালিয়ে তামিম হাসান হৃদয়কে গ্রেফতার করা হয়। তার হেফাজত ও দেখানো মতে ট্রান্সফরমার থেকে বের করা ৪২ কেজি তামার তার উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, গ্রেফতার তিনজন একটি আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের সক্রিয় সদস্য। তারা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন এলাকায় চুরি, ডাকাতিসহ নানা অপরাধে জড়িত।
পুলিশ আরও জানায়, আল আমিনের বিরুদ্ধে চোরাচালান ও বিস্ফোরক আইনে দুটি মামলা এবং বাবলু প্রাংয়ের বিরুদ্ধে মাদক, চুরি ও অস্ত্রসহ ছয়টি মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
ডাকাত চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেফতার এবং লুণ্ঠিত বাকি মালামাল উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে ডিবি।

