শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি: বগুড়ার শেরপুরে পল্লী চিকিৎসকের কথিত ‘ছোট অপারেশনের’ পর পাঁচ বছরের এক শিশুর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের দাবি, চিকিৎসার সময় শিশুটির যৌনাঙ্গের মাথায় কাটাছেঁড়া করে ব্যান্ডেজ করা হয়। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তীব্র ব্যথা, প্রস্রাব বন্ধ হয়ে যাওয়া ও পেট ফুলে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে তাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
অসুস্থ শিশুটির নাম ওসমান আলী (৫)। সে শেরপুর উপজেলার বিশালপুর ইউনিয়নের সাতবাড়িয়া গ্রামের জিয়াউর রহমানের ছেলে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ আগস্ট সকালে প্রস্রাবের স্থানে তীব্র ব্যথা ও জ্বালাপোড়া নিয়ে ওসমানকে শেরপুর শহরের সান্যালপাড়া এলাকার পল্লী চিকিৎসক সুনীল বিশ্বাসের চেম্বারে নেওয়া হয়। শিশুটিকে দেখে সুনীল বিশ্বাস প্রস্রাবের রাস্তায় জরুরি ভিত্তিতে ‘ছোট অপারেশন’ করার কথা জানান। এ জন্য তিনি ১২ হাজার টাকা দাবি করেন বলে পরিবারের অভিযোগ।
শিশুটির বাবা জিয়াউর রহমানের অভিযোগ, পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করার জন্য তিনি কিছুটা সময় চেয়েছিলেন। কিন্তু এর মধ্যেই শিশুটির চিকিৎসা শুরু করা হয়। একপর্যায়ে শিশুটির যৌনাঙ্গের মাথায় কাটাছেঁড়া করে ব্যান্ডেজ করা হয়। পরে ১১ হাজার টাকা নিয়ে ওষুধ লিখে শিশুটিকে বাড়িতে পাঠানো হয়।
জিয়াউর রহমান বলেন, ‘চেম্বারের পরিবেশ ও সুনীল বিশ্বাসের উপস্থাপন দেখে আমি তাঁকে বড় চিকিৎসক মনে করেছিলাম। পরে স্থানীয়দের কাছ থেকে জানতে পারি, তিনি পল্লী চিকিৎসক। আমার ছেলের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গে কেন কাটাছেঁড়া করা হলো, সেটাই বুঝতে পারছি না। আমার ছেলে অনেক কষ্ট করেছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ী ব্যক্তির শাস্তি চাই।’
পরিবারের সদস্যরা জানান, বাড়িতে নেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শিশুটির ব্যথা বেড়ে যায়। একপর্যায়ে তার প্রস্রাব বন্ধ হয়ে পেট ফুলতে শুরু করে। রাত ৮টার দিকে অবস্থার আরও অবনতি হলে স্বজনেরা তাকে আবার সুনীল বিশ্বাসের চেম্বারে নিয়ে যান। পরিবারের দাবি, শিশুটির অবস্থা দেখে সুনীল বিশ্বাস চিকিৎসার জন্য নেওয়া ১১ হাজার টাকা ফেরত দেন। পরে স্থানীয়দের পরামর্শে শিশুটিকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে সে বর্তমানে চিকিৎসাধীন।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, সুনীল বিশ্বাস দীর্ঘদিন ধরে পল্লী চিকিৎসা দিয়ে আসছেন। তবে তিনি মাঝেমধ্যে কাটা-ছেঁড়া ও সেলাইসহ বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসাও দিয়ে থাকেন। চেম্বারের পরিপাটি পরিবেশ ও ব্যবহারের কারণে সাধারণ মানুষ তাঁকে চিকিৎসক মনে করে চিকিৎসা নিতে আসেন বলেও তাঁদের দাবি।
অভিযোগের বিষয়ে সুনীল বিশ্বাস বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন ধরে এমন শত শত রোগীর চিকিৎসা দিয়ে আসছি। শিশুটির চিকিৎসায় কোনো ভুল হয়ে থাকতেই পারে। আমি তার বাবাকে টাকা ফেরত দিয়েছি। এখন আর কী হবে।’
শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘পল্লী চিকিৎসকের সার্জারি করার কোনো অনুমতি নেই। এমনকি প্রেসক্রিপশনে ওষুধ লেখার ক্ষেত্রেও তাঁদের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। কেউ যদি কাটা-ছেঁড়া বা এ ধরনের কোনো কর্মকাণ্ড করে থাকেন, সেটি আইনবহির্ভূত কাজ।’
শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইদুজ্জামান হিমু বলেন, এ ধরনের পল্লী চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে আগে থেকেই বেশ কিছু অভিযোগ রয়েছে। অচিরেই কথিত চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হবে।
শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে ঘটনাটি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

