বগুড়া প্রতিনিধি:
বগুড়ায় টিকটকের মাধ্যমে পরিচয়ের পর এক অটো রিকশাচালককে বাসায় ডেকে নিয়ে মারধর, আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ধারণ এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে ২০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে মোছাঃ সাথী (৩৫) নামে এক নারীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বগুড়া সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী অটো রিকশাচালক আব্দুল মান্নান মিয়া (৩১)।
অভিযোগে আব্দুল মান্নান মিয়া উল্লেখ করেন, তিনি শাজাহানপুর উপজেলার বেজোড়া দক্ষিণপাড়া গ্রামের বাসিন্দা এবং পেশায় অটো রিকশাচালক। টিকটক আইডির মাধ্যমে মোছাঃ সাথীর সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে মোবাইল ফোনে তাদের কথাবার্তা চলত।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে শাজাহানপুর উপজেলার বনানী মোড় থেকে সাথী তাকে মোবাইল ফোনে ডেকে নেন। একটি বস্তা চাল নিয়ে বগুড়া শহরের নামাজগড় যাওয়ার জন্য তিনি মান্নানের অটো রিকশা ভাড়া করেন। পরে তাকে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়।
সেখান থেকে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বগুড়া মহানগরের নিশিন্দারা ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের এলজিইডি ভবনের পশ্চিম পাশে একটি বাসার সামনে গিয়ে সাথী অটো রিকশা থেকে নামেন। অভিযোগে বলা হয়, চালের বস্তাটি দ্বিতীয় তলায় তুলে দিতে মান্নানকে বলা হয়। তিনি বস্তাটি নিয়ে দ্বিতীয় তলায় গেলে সেখানে আগে থেকেই থাকা তিনজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি তাকে একটি কক্ষে আটকে মারধর করেন।
অভিযোগকারীর দাবি, পরে মারধরের ভয় দেখিয়ে তার পরনের কাপড় খুলতে বাধ্য করা হয় এবং সাথীর সঙ্গে তার আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ধারণ করা হয়। এরপর ওই ছবি-ভিডিও অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়ার এবং তাকে ছুরি দিয়ে আঘাত করার ভয় দেখিয়ে টাকা দাবি করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, কোনো উপায় না পেয়ে মান্নান পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা নিয়ে তার নিজের বিকাশ নম্বর ০১৭১০৩৯৬২৬৬-এ গ্রহণ করেন। পরে অভিযুক্তদের দেওয়া বিকাশ নম্বর ০১৯২০৪০৩০২০-এ ২০ হাজার টাকা পাঠানো হয়। টাকা নেওয়ার পর বিষয়টি কাউকে না বলার জন্য হুমকি দিয়ে তাকে বাসা থেকে বের করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন মান্নান।
পরে তিনি বিষয়টি স্ত্রী রনজিতা বেগম, খোরশেদ আলী মতিনসহ স্থানীয় কয়েকজনকে জানান। পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী আব্দুল মান্নান মিয়া বগুড়া সদর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগের সত্যতা, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি তদন্তসাপেক্ষ।

