বগুড়া প্রতিনিধি: বগুড়ায় ডিবি পুলিশ পরিচয়ে এক সিএনজি চালককে অপহরণ, মারপিট ও এক লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির ঘটনায় ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে নগদ দুই হাজার টাকা ও চারটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গত ১৩ আগস্ট ২০২৬ রাত আনুমানিক ১০টা ৪৫ মিনিটে মোছা. হাজেরা বেগম তাঁর স্বামী মো. রফিকুল ইসলামকে উদ্ধারের জন্য বগুড়া ডিবি কার্যালয়ে এসে মৌখিকভাবে অভিযোগ করেন। তিনি জানান, অজ্ঞাতনামা কয়েকজন ব্যক্তি তাঁর স্বামীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক আটক করে একটি বাসায় নিয়ে যায়। সেখানে তাঁকে মারধর, দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখানো এবং বিবস্ত্র করা হয়। এ সময় তাঁর কাছে থাকা নগদ ১৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
পরে রফিকুল ইসলামকে আটক রেখে তাঁর স্ত্রীর মোবাইল ফোনে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে কল করে ২০ মিনিটের মধ্যে এক লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। টাকা না দিলে তাঁকে আদালতে চালান দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে অপহরণকারীরা রফিকুলকে মারধর করে এবং মোবাইল ফোনে তাঁর চিৎকার ও কান্নার শব্দ শোনায়।
ঘটনার পর মামলা রুজুর আগেই বগুড়া জেলা গোয়েন্দা শাখার অফিসার ইনচার্জ মো. ইকবাল বাহারের তত্ত্বাবধানে এসআই মো. রহমত উল্লাহ মানিকের নেতৃত্বে ডিবির একটি দল অভিযান শুরু করে।
বৃহস্পতিবার দিনগত রাত ১৪ আগস্ট গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বগুড়া শহরের পুরান বগুড়ার শেরেবাংলা নগর এলাকায় পলাতক আসামি মো. মেহেদী হাসান শিহাবের দোতলা বাসায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় অভিযুক্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তাররা হলেন—
১. মো. সজীব আহম্মেদ (৩২), সাবগ্রাম দক্ষিণপাড়া, বগুড়া সদর।
২. মো. লজিম প্রাং (৪০), কামতারা পশ্চিমপাড়া, শিবগঞ্জ।
৩. মো. সোহান শেখ (১৮), মালগ্রাম উত্তরপাড়া, বগুড়া সদর।
অভিযানের সময় ওই বাসা থেকে ভুক্তভোগী মো. রফিকুল ইসলাম (৪৩)-কে উদ্ধার করা হয়। পরে তাঁকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল/মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের জরুরি বিভাগে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তারদের হেফাজত থেকে মুক্তিপণের দুই হাজার টাকা ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত আরও কয়েকজনের বিষয়ে তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।
পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তার ২ নম্বর আসামি লজিম প্রাংয়ের বিরুদ্ধে চুরিসহ মোট দুটি মামলা বিজ্ঞ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
গ্রেপ্তার আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

