এম,এ রাশেদ,স্টাফ রিপোর্টারঃ বগুড়া সদর উপজেলার ঠনঠনিয়া মায়ামটরস এলাকায় প্রতিবেশীদের মধ্যে পূর্ব বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় একই পরিবারের তিনজন আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আহত ব্যক্তি সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং বিষয়টি তদন্ত করছে।
লিখিত অভিযোগে বাদী শ্রী বাবু বাসপো, পিতা-দুর্গা বাসপো, সাং-ঠনঠনিয়া মায়ামটরস, থানা ও জেলা বগুড়া উল্লেখ করেন, অভিযুক্তরা তার প্রতিবেশী। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন শ্রী মিলন, পূজা, চুমকী ও মিনতি। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে বাদীর ১১ বছর বয়সী মেয়ে সাধনার সঙ্গে দ্বিতীয় অভিযুক্তের কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে প্রথম অভিযুক্ত শিশুটিকে মারধর করেন। মেয়েকে রক্ষা করতে গেলে বাদীকে ধারালো দা দিয়ে মাথায় আঘাত করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। একই সময় অন্য অভিযুক্তরা লাঠি দিয়ে মারধর করে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
এদিকে, বাদীর স্ত্রী স্বামীকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে তাকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, একপর্যায়ে তার পরনের শাড়ি টেনে ছিঁড়ে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করা হয়। পরিবারের সদস্যদের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধার করেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ঘটনাস্থল ত্যাগ করার আগে অভিযুক্তরা বাদী ও তার পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে চলে যান।
পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আহতদের সিএনজিযোগে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণের পর চিকিৎসাসংক্রান্ত কাগজপত্র সংযুক্ত করে বগুড়া সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন আহত শ্রী বাবু বাসপো। চিকিৎসার কারণে থানায় অভিযোগ দায়ের করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার সাক্ষী হিসেবে অভিযোগে আদরী, সাধনা ও দেবসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বগুড়া সদর থানার পুলিশ জানায়, লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং অভিযোগের বিষয়গুলো তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।

