এম.এ রাশেদ,স্টাফ রিপোর্টারঃ আর্থিক সংকটে চোখের চিকিৎসা করাতে না পারা অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে মীর শাহে আলম ফাউন্ডেশন। ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে বগুড়ার শিবগঞ্জ ও মোকামতলা এলাকায় দুই দিনব্যাপী মানবিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রথম দিনে প্রায় দুই হাজার মানুষকে বিনামূল্যে চক্ষুসেবা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ছানি আক্রান্ত রোগীদের অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) বগুড়ার মোকামতলা উপজেলার সৈয়দপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে দিনব্যাপী এ চিকিৎসা কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপির উদ্যোগে আয়োজিত কর্মসূচিতে অর্থাভাবে চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত বহু মানুষ সেবা নেওয়ার সুযোগ পান।
চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগীদের মধ্যে অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে চোখের নানা সমস্যায় ভুগছিলেন। বিশেষ করে ছানিজনিত দৃষ্টিস্বল্পতায় আক্রান্ত বয়স্ক ব্যক্তিদের কাছে এ উদ্যোগ নতুন আশার সঞ্চার করেছে। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, সেবাগ্রহীতাদের মধ্যে প্রায় ৬০০ জনের ছানি অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা করা হবে।
চিকিৎসা নিতে আসা মোকামতলা উপজেলার সৈয়দপুর ইউনিয়নের সরদারপাড়া গ্রামের লাভলী বেওয়া আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, অর্থের অভাবে দীর্ঘদিন ধরে চোখের চিকিৎসা করাতে পারছিলেন না তিনি। বিনামূল্যে চিকিৎসার সুযোগ পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করে এ উদ্যোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য দোয়া করেন তিনি।
একইভাবে সৈয়দপুর গ্রামের সাহেদা ও নয়াপাড়া গ্রামের কছিমদ্দিনসহ অনেক বয়স্ক রোগী চিকিৎসাসেবা পেয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তাঁদের মতো দরিদ্র ও অসচ্ছল মানুষের জন্য বিনামূল্যে চক্ষু পরীক্ষা এবং ছানি অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা পরিবারগুলোর চিকিৎসাব্যয় কমাতে সহায়ক হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আয়োজকদের ভাষ্য, অর্থনৈতিক অসচ্ছলতার কারণে অনেক মানুষ প্রয়োজনীয় চক্ষুচিকিৎসা নিতে পারেন না। সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়ায় তাঁদের দৈনন্দিন কাজকর্ম ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়। এসব মানুষের কাছে চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
দুই দিনব্যাপী কর্মসূচির দ্বিতীয় দিনে রোববার (২৫ অক্টোবর) বগুড়ার শিবগঞ্জ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে ছাত্রীদের মধ্যে বিনামূল্যে বাইসাইকেল বিতরণের পরিকল্পনা রয়েছে। আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মোকামতলা ও শিবগঞ্জ উপজেলার ছয় শতাধিক মেধাবী ছাত্রীর হাতে এসব বাইসাইকেল তুলে দেওয়া হবে। শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের দুর্ভোগ কমানো এবং পড়াশোনা অব্যাহত রাখতে উৎসাহিত করাই এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।
চক্ষুচিকিৎসা ও ছানি অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা এবং ছাত্রীদের বাইসাইকেল বিতরণের এ কর্মসূচির মাধ্যমে চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি শিক্ষা সহায়তাকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে অসচ্ছল মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা এবং শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত সহজ করার এ উদ্যোগকে মানবিক ও সামাজিক সহায়তামূলক কার্যক্রম হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
জাইমা রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত এ দুই দিনের কর্মসূচিতে একদিকে দৃষ্টিশক্তি রক্ষায় চিকিৎসাসেবা, অন্যদিকে ছাত্রীদের শিক্ষাজীবনে সহায়তার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।

