এম,এ রাশেদ,স্টাফ রিপোর্টারঃ বগুড়ার শাজাহানপুরে পৃথক দুটি অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র ও ইয়াবা ট্যাবলেটসহ কিশোর গ্যাং ‘জালাল গ্রুপ’-এর ১১ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১২-এর সিপিএসসি বগুড়া ক্যাম্প। বুধবার (১৯ আগস্ট) ভোররাতে শাজাহানপুর উপজেলার আশেকপুর ইউনিয়নের শাবরুল এলাকার তালপুকুর পাড়া ও হাটখোলা পাড়ায় অভিযান দুটি পরিচালনা করা হয়।
র্যাব-১২-এর দেওয়া প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে প্রথম অভিযানটি রাত আনুমানিক ৩টার দিকে শাবরুলের তালপুকুর পাড়ায় পরিচালনা করা হয়। এ সময় মো. বাপ্পী হাসান (২১) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকে লোহার তৈরি দুটি চাপাতি, ১৩টি ইয়াবা ট্যাবলেট, দুটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন ও একটি সিমকার্ড জব্দ করা হয়।
এরপর ভোর আনুমানিক ৫টার দিকে একই ইউনিয়নের শাবরুল হাটখোলা পাড়ায় দ্বিতীয় অভিযান পরিচালনা করে র্যাব। এ অভিযানে মো. ইউসুফ প্রামানিক (২২), মো. জালাল মন্ডল (৩৮), মো. রাব্বি হাসান (২২), মো. মেহেদী হাসান (২৩), মো. রিপন প্রামানিক (২৭), মো. আকাশ প্রামানিক (১৯), মো. শুভ (২০), মো. কাইয়ম প্রামানিক (১৯), মো. কাউছার হোসেন (২০) এবং আইনের সঙ্গে সংঘাতে জড়িত এক কিশোরকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাবের দাবি, দ্বিতীয় অভিযানে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে লোহার তৈরি নয়টি চাপাতি, একটি বার্মিজ চাকু, একটি চাইনিজ কুড়াল, একটি ছুরি, একটি বল্লম, পাঁচটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন ও ১১টি সিমকার্ড উদ্ধার করা হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে র্যাব জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা স্থানীয়ভাবে ‘জালাল গ্রুপ’ নামে পরিচিত একটি কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত। দলটি এলাকায় সংঘবদ্ধভাবে চলাফেরা ও দেশীয় অস্ত্র বহনের সঙ্গে জড়িত ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।
র্যাব-১২ সূত্রে আরও জানা যায়, গ্রেপ্তার মো. বাপ্পী হাসানের বিরুদ্ধে শাজাহানপুর থানায় ২০২৪ সালের একটি মামলায় বিভিন্ন ধারায় এজাহারভুক্ত আসামি থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। অপরদিকে মো. জালাল মন্ডলের বিরুদ্ধে কাহালু, বগুড়া সদর ও শাজাহানপুর থানায় ২০২৩, ২০১৯ ও ২০২৩ সালের পৃথক মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। এসব মামলার মধ্যে মারামারি, হত্যাচেষ্টা, চাঁদাবাজি, মাদক ও অস্ত্র আইনের অভিযোগ রয়েছে বলে র্যাব জানিয়েছে।
র্যাব জানায়, অভিযান শেষে জব্দ করা অস্ত্র, মাদক ও অন্যান্য আলামতসহ গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য শাজাহানপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, কিশোর গ্যাং ও মাদক-অস্ত্রের বিস্তার রোধ এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে র্যাব-১২।
সিপিএসসি বগুড়া, র্যাব-১২-এর কোম্পানি কমান্ডার স্কোয়াড্রন লীডার ফিরোজ আহমেদ স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

