এম,এ রাশেদ,স্টাফ রিপোর্টারঃ পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সারাদেশের মতো বগুড়াতেও শুরু হয়েছে বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬। মঙ্গলবার (২১ জুলাই ২০২৬) সকালে বগুড়া শহরের শহীদ টিটু মিলনায়তনে আয়োজিত বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সাত দিনব্যাপী এ মেলার উদ্বোধন করেন বগুড়া জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমান।
জেলা প্রশাসন ও বন বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত এ মেলায় সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে মোট ৪০টি প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করেছে। দর্শনার্থীদের জন্য স্টলগুলোতে ২০০টিরও বেশি প্রজাতির ফলজ, বনজ, ঔষধি এবং সৌন্দর্যবর্ধক গাছ প্রদর্শন ও বিক্রির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ মেলায় এসে নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন প্রজাতির চারা সংগ্রহ করতে পারবেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব দিন দিন আরও বাড়ছে।
একটি সবুজ ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও স্বতঃস্ফূর্তভাবে বৃক্ষরোপণে এগিয়ে আসতে হবে। বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও তরুণ প্রজন্মের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা সৃষ্টি এবং গাছ লাগানোর অভ্যাস গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
বক্তারা আরও বলেন, বৃক্ষ শুধু অক্সিজেনের উৎস নয়; এটি জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, ভূমিক্ষয় রোধ, প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস এবং খাদ্য ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। একই সঙ্গে বাণিজ্যিকভাবে বৃক্ষরোপণ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, গ্রামীণ অর্থনীতির বিকাশ এবং দারিদ্র্য বিমোচনেও কার্যকর অবদান রাখতে পারে। তাই টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে ব্যাপকভাবে বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই।
জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমান বলেন, পরিবেশবান্ধব সমাজ গঠনে প্রত্যেক নাগরিককে অন্তত একটি করে গাছ লাগিয়ে তার পরিচর্যার দায়িত্ব নিতে হবে। সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম আরও জোরদার করা হলে আগামী প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও সবুজ পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
অনুষ্ঠানে বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. মতলুবুর রহমান, বগুড়া সিটি করপোরেশনের প্রশাসক, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষার্থী, পরিবেশপ্রেমী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজকদের আশা, সাত দিনব্যাপী এ বৃক্ষমেলা সাধারণ মানুষের মধ্যে পরিবেশ সংরক্ষণে ইতিবাচক সচেতনতা সৃষ্টি করবে এবং বৃক্ষরোপণ আন্দোলনকে আরও বেগবান করবে।

