এম,এ রাশেদ,স্টাফ রিপোর্টারঃ বগুড়ায় ২৫০ তুলাচাষীর মাঝে প্রণোদনা বিতরণ, তুলা উৎপাদন বাড়িয়ে আমদানিনির্ভরতা কমানোর ওপর জোর
দেশের কৃষি খাতকে আরও আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও টেকসই করতে সরকার ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপি। তিনি বলেছেন, আগামী চার বছরের মধ্যে দেশের ২ কোটি ৭০ লাখ কৃষকের হাতে কৃষক কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে, যাতে কৃষকরা সরকারি প্রণোদনা, ভর্তুকি ও বিভিন্ন কৃষিসেবা আরও সহজে পেতে পারেন।
শনিবার (১৮ জুলাই ২০২৬) বিকেলে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলা অডিটোরিয়ামে তুলা উন্নয়ন বোর্ডের বগুড়া জোন আয়োজিত ২০২৬–২৭ মৌসুমে তুলা ফসলের আবাদ ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মধ্যে বিনামূল্যে হাইব্রিড তুলাবীজ, সার ও বালাইনাশক বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে শিবগঞ্জ, সোনাতলা ও গাবতলী উপজেলার ২৫০ জন তুলাচাষীর মাঝে সরকারি প্রণোদনা হিসেবে উন্নতমানের হাইব্রিড তুলাবীজ, রাসায়নিক সার ও বালাইনাশক বিতরণ করা হয়। এ সময় দুই শতাধিক কৃষক, কৃষি কর্মকর্তা এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশে তুলার উৎপাদন বৃদ্ধি এখন সময়ের দাবি। প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ তুলা বিদেশ থেকে আমদানি করতে হওয়ায় বৈদেশিক মুদ্রার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। দেশীয় উৎপাদন বাড়ানো গেলে একদিকে আমদানিনির্ভরতা কমবে, অন্যদিকে দেশের বস্ত্র ও তৈরি পোশাকশিল্পের কাঁচামালের জোগান আরও শক্তিশালী হবে।
তিনি বলেন, তুলা একটি বহুমুখী সম্ভাবনাময় অর্থকরী ফসল। শুধু সুতা উৎপাদনেই নয়, তুলা থেকে পার্টিকেল বোর্ড, মেডিকেল কটন, শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত বিভিন্ন উপকরণসহ নানা ধরনের মূল্যসংযোজিত পণ্য উৎপাদন সম্ভব। ভারত ও পাকিস্তান তুলাভিত্তিক শিল্পে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। বাংলাদেশেও সেই সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে তুলাভিত্তিক শিল্পের সম্প্রসারণ ঘটানো সম্ভব বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
মীর শাহে আলম বলেন, বিএনপি সরকার কৃষিবান্ধব নীতি বাস্তবায়নে অঙ্গীকারবদ্ধ। নির্বাচনী ইশতেহারে কৃষকদের যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, তা অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করা হবে। কৃষক কার্ড কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষকদের একটি সমন্বিত ডাটাবেজ তৈরি হবে, যা ভবিষ্যতে ভর্তুকি, প্রণোদনা, কৃষিঋণ ও অন্যান্য সরকারি সহায়তা আরও স্বচ্ছ ও দ্রুত পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি আরও বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়ে বাংলাদেশে আধুনিক তৈরি পোশাকশিল্পের ভিত্তি স্থাপিত হয়। তাঁর গৃহীত রপ্তানিমুখী শিল্পনীতি ও বেসরকারি খাতকে উৎসাহিত করার উদ্যোগ দেশের অর্থনীতিতে নতুন দিগন্তের সূচনা করেছিল। সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকার তুলা চাষ সম্প্রসারণে ২০ কোটি টাকার প্রণোদনা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন তুলা উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী পরিচালক রেজাউল আমিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ড. মাহমুদুল হাসান সুজা, তুলা উন্নয়ন বোর্ডের রংপুর অঞ্চলের উপপরিচালক জাফর আলী, বগুড়া জোনের প্রধান তুলা উন্নয়ন কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল, শিবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ শাহীনুজ্জামান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল হান্নান, শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এস. এম. তাজুল ইসলাম এবং সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুল ওহাব।
এছাড়া বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, উপজেলা প্রশাসনের প্রতিনিধিরা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং বিপুলসংখ্যক কৃষক অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
অনুষ্ঠান শেষে কৃষকদের হাতে প্রণোদনার উপকরণ তুলে দেন প্রধান অতিথি এবং তুলা চাষ সম্প্রসারণের মাধ্যমে দেশের কৃষি ও শিল্প অর্থনীতিকে আরও সমৃদ্ধ করতে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।

