এম.এ রাশেদ,স্টাফ রিপোর্টারঃ বগুড়ার ধুনট উপজেলার কালেরপাড়া ইউনিয়নের নিত্তিপোতা মধ্যপাড়া গ্রামে জনসাধারণের দীর্ঘদিনের ব্যবহৃত একটি রাস্তা বাঁশের বেড়া দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া এবং বিভিন্ন স্থানে গাছের চারা রোপণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এতে তিন শতাধিক পরিবারের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। হঠাৎ করে চলাচলের পথ সংকুচিত ও বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এলাকাবাসী।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টার দিকে সরেজমিনে দেখা যায়, নিত্তিপোতা মধ্যপাড়া গ্রাম থেকে ইছামতী নদীর দিকে যাওয়া সড়কটির বিভিন্ন অংশে বাঁশের বেড়া দেওয়া হয়েছে। রাস্তার কয়েকটি স্থানে গাছের চারাও রোপণ করা হয়েছে। ফলে কোথাও রাস্তা সংকুচিত হয়ে গেছে, আবার কোথাও পথচারীদের স্বাভাবিক চলাচলে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, প্রায় ১৫ দিন আগে রাস্তার বিভিন্ন অংশে এসব বাঁশের বেড়া নির্মাণ করা হয়। একই সময়ে রাস্তার ওপর ও পাশে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, দানেশ মন্ডলের ছেলে রেজাউল মন্ডল, জলিল মন্ডল, জলিল মন্ডলের ছেলে আনোয়ার হোসেন মন্ডল ও রুবেল মন্ডল এবং মৃত তবিবর রহমানের ছেলে জাহিদুল ইসলাম এসব বেড়া নির্মাণ ও গাছের চারা রোপণের সঙ্গে জড়িত।
গ্রামবাসীরা জানান, নিত্তিপোতা মধ্যপাড়া থেকে ইছামতী নদীর দিকে যাতায়াতের জন্য দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা এই পথটি ব্যবহার করে আসছেন। তাঁদের দাবি, এটি সরকারি রাস্তা এবং গ্রামের মানুষের যাতায়াতের অন্যতম প্রধান পথ। প্রতিদিন শিক্ষার্থী, কৃষক, নারী, শিশু ও বয়স্কসহ শত শত মানুষ এ রাস্তা দিয়ে চলাচল করেন।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, তাঁদের ফসলি জমির উৎপাদিত ফসল বাড়িতে নিয়ে আসার ক্ষেত্রেও এ রাস্তাটি গুরুত্বপূর্ণ। রাস্তার ওপর প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হওয়ায় কৃষিপণ্য পরিবহনেও সমস্যায় পড়তে হচ্ছে তাঁদের। অনেকে বিকল্প পথ ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন, এতে অতিরিক্ত সময় ও খরচ দুটোই বাড়ছে।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, একটি জনসাধারণের ব্যবহৃত রাস্তার ওপর ব্যক্তিগতভাবে বেড়া নির্মাণ কিংবা গাছ লাগিয়ে চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হলে এর প্রভাব শুধু যোগাযোগের ওপরই পড়ে না; মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা, কৃষিকাজ ও স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও বাধাগ্রস্ত হয়। তাই বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে রাস্তার প্রকৃত অবস্থান ও মালিকানা নির্ধারণ এবং জনসাধারণের চলাচলের পথ উন্মুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
স্থানীয় সাহাদুল ফকির, বাবু মিয়া, তোফাজ্জল হোসেন, চাঁন মিয়া, এনার্জি আকন্দ ও মাহমুদুল হাসান বলেন, “জনসাধারণের ব্যবহৃত রাস্তা কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ব্যক্তিগত সম্পত্তি হতে পারে না। রাস্তার ওপর বেড়া নির্মাণ কিংবা গাছ লাগিয়ে মানুষের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করা অত্যন্ত দুঃখজনক। প্রশাসনের উচিত দ্রুত সরেজমিনে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া।”
তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত রেজাউল মন্ডল, জলিল মন্ডল, আনোয়ার হোসেন মন্ডল, রুবেল মন্ডল ও জাহিদুল ইসলামের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
এদিকে, এলাকাবাসী প্রশাসনের কাছে রাস্তার সীমানা, অবস্থান ও মালিকানা যাচাই করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের প্রত্যাশা, তদন্তে যদি জনসাধারণের চলাচলের রাস্তা দখল কিংবা অবৈধভাবে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির বিষয়টি প্রমাণিত হয়, তাহলে দ্রুত তা অপসারণ করে দীর্ঘদিনের ব্যবহৃত পথটি উন্মুক্ত করা হবে।
এ বিষয়ে ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আরিফ উল্লাহ নিজামী বলেন, “নিত্তিপোতা মধ্যপাড়া গ্রামের ইছামতী নদীর দিকে যাওয়ার রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ার বিষয়ে এখনো কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পাওয়া গেলে বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

