দৈনিক প্রাণের শহর বিডি ডেস্ক:
একবিংশ শতাব্দীর তথাকথিত আধুনিক ও সভ্য সমাজে আমরা কতটা মানবিকতা হারিয়ে ফেলেছি, রাজধানীর পল্লবীর সাম্প্রতিক ঘটনাটি যেন তারই এক মর্মান্তিক উদাহরণ।
৭২ বছর বয়সী এক বৃদ্ধা মায়ের গলিত মরদেহ প্রায় এক সপ্তাহ পর উদ্ধার করেছে পুলিশ। আরও বেদনাদায়ক বিষয় হলো, তাঁর সন্তানরা সবাই সমাজে প্রতিষ্ঠিত ও উচ্চশিক্ষিত। একজন সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, আরেকজন প্রবাসী। অথচ জীবনের শেষ সময়ে সেই মায়ের পাশে থাকার মতো সময় বা মনোযোগ কারও ছিল না।
শিক্ষা মানুষকে জ্ঞানী করতে পারে, কিন্তু মানবিকতা শেখাতে পারে না— যদি না সেই শিক্ষা মূল্যবোধের সঙ্গে যুক্ত হয়। একজন মা তাঁর সন্তানকে বড় করতে জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সময়, শ্রম, ভালোবাসা ও স্বপ্ন উৎসর্গ করেন। অথচ সেই মায়ের শেষ বয়স যদি কাটে নিঃসঙ্গতা, অবহেলা ও একাকীত্বে, তবে সেটি শুধু একটি পরিবারের ব্যর্থতা নয়; এটি আমাদের সামাজিক ও নৈতিক অবক্ষয়েরও প্রতিচ্ছবি।
আজ আমরা কর্মব্যস্ত, প্রযুক্তিনির্ভর এবং নিজেদের জগতে এতটাই ডুবে আছি যে মা-বাবার সঙ্গে কয়েক মিনিট কথা বলার সময়ও অনেকের হয়ে ওঠে না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সুখী পরিবারের ছবি দেখা যায়, কিন্তু বাস্তবে কত মা-বাবা নিঃসঙ্গতার যন্ত্রণা বয়ে বেড়াচ্ছেন, তার হিসাব কেউ রাখে না।
এই ঘটনাকে শুধু একটি সংবাদ হিসেবে দেখলে ভুল হবে। এটি আমাদের সবার জন্য একটি সতর্কবার্তা। বাবা-মা বয়সের ভারে যখন দুর্বল হয়ে পড়েন, তখন তাদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হয় সন্তানের সময়, যত্ন ও সান্নিধ্য।
আসুন, আমরা অন্তত এতটুকু করি— প্রতিদিন মা-বাবার খোঁজ নিই, তাদের সঙ্গে কথা বলি, পাশে বসি। কারণ পৃথিবীর সব অর্জন, সব সম্মান আর সব সাফল্যের চেয়েও মূল্যবান হলো তাঁদের দোয়া, ভালোবাসা এবং উপস্থিতি।
মা-বাবাকে ভালোবাসুন, তাঁদের সময় দিন। কারণ একদিন সময় থাকবে, কিন্তু হয়তো তাঁরা আর থাকবেন না। ❤️

