এম,এ রাশেদ,স্টাফ রিপোর্টারঃ স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপি বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা শুধু ইতিহাসের একটি অধ্যায় নয়, এটি গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার, মানুষের অধিকার ও মুক্তির আকাঙ্ক্ষার এক অনন্য প্রতীক। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর বাস্তবায়নে দৃঢ়ভাবে অঙ্গীকারবদ্ধ এবং সেই লক্ষ্যেই ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
শুক্রবার (২৪ জুলাই ২০২৬) বিকেল সাড়ে ৩টায় বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলা চত্বরে ‘মীর মুগ্ধ স্কয়ার’-এর সংস্কার কাজের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে ‘মীর মুগ্ধ স্কয়ার’ নামে পরিচিত এ স্থানটির পূর্বের নাম ছিল ‘তারেক রহমান স্কয়ার’। প্রধানমন্ত্রী নিজের নাম পরিবর্তন করে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি ও আত্মত্যাগকে সম্মান জানাতে এর নাম ‘মীর মুগ্ধ স্কয়ার’ রাখার সিদ্ধান্ত নেন। এটি কেবল একটি স্থাপনার নাম নয়; বরং জুলাইয়ের আত্মত্যাগ, সাহস, গণআকাঙ্ক্ষা এবং গণতান্ত্রিক আন্দোলনের এক স্থায়ী প্রতীক। প্রতিদিন মানুষ এই স্কয়ার অতিক্রম করার সময় জুলাইয়ের শহীদ ও আহত যোদ্ধাদের আত্মত্যাগ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।
তিনি আরও বলেন, যাদের বুকের তাজা রক্তের বিনিময়ে ফ্যাসিবাদী সরকারের পতন হয়েছে, সেই বীর শহীদদের আত্মত্যাগ কখনোই বৃথা যেতে পারে না। জুলাইয়ের প্রতিটি শহীদ ও আহত যোদ্ধা জাতির হৃদয়ে চিরদিন অম্লান হয়ে থাকবেন। তাদের ত্যাগ জাতির জন্য এক অনন্ত প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
মীর শাহে আলম বলেন, আমরা যেমন মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি, তেমনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদেরও সমান মর্যাদায় স্মরণ করতে হবে। নতুন প্রজন্মের কাছে এই ইতিহাস সঠিকভাবে তুলে ধরা প্রয়োজন, যাতে তারা স্বাধীনতা, গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও নাগরিক অধিকারের মূল্য অনুধাবন করতে পারে এবং দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়।
তিনি বলেন, জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই শহীদদের স্বপ্নের বাংলাদেশ বিনির্মাণ সম্ভব। সরকার সেই লক্ষ্য অর্জনে আন্তরিকতা, স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতার সঙ্গে কাজ করছে এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণে প্রয়োজনীয় সব উদ্যোগ গ্রহণ করবে।
প্রতিমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি ‘মীর মুগ্ধ স্কয়ার’-এর সৌন্দর্য, পরিচ্ছন্নতা ও মর্যাদা রক্ষায় সচেতন ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এই স্কয়ার আগামী প্রজন্মের কাছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস, আত্মত্যাগ, দেশপ্রেম ও গণতান্ত্রিক সংগ্রামের এক জীবন্ত স্মারক হিসেবে বিবেচিত হবে।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ, প্রশাসনের কর্মকর্তারা, জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধারা, শহীদ পরিবারের সদস্যসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিপুলসংখ্যক মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

