https://pranershohorbd.net/wp-content/uploads/2022/09/logo-ps-1.png
ঢাকাMonday , 24 August 2026
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন-বিচার
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আবহাওয়া বার্তা
  6. কক্সবাজার
  7. কিশোরগঞ্জ
  8. কুড়িগ্রাম
  9. কুমিল্লা
  10. কুষ্টিয়া
  11. কৃষি বার্তা
  12. খাগড়াছড়ি
  13. খুলনা
  14. খেলাধুলা
  15. খোলা কলাম
আজকের সর্বশেষ সবখবর

১০ বছর ধরে প্রধান শিক্ষক ছাড়াই চলছে বগুড়ার ৮১৬ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

admin
August 24, 2026 6:00 pm
Link Copied!

বগুড়া প্রতিনিধি: বগুড়া জেলার ৮১৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষক নেই। প্রায় এক দশক ধরে এসব বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য থাকায় সহকারী শিক্ষকদের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এতে প্রশাসনিক কার্যক্রমের পাশাপাশি নিয়মিত পাঠদানও ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষক ও অভিভাবকেরা।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, বগুড়া জেলায় মোট ১ হাজার ৬০১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে ৮১৬টি বিদ্যালয়েই প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য। সবচেয়ে বেশি সংকট গাবতলী উপজেলায়। সেখানে ১৬৪টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ১০৪টিতেই প্রধান শিক্ষক নেই।

উপজেলাভিত্তিক তথ্যে দেখা যায়, আদমদীঘিতে ৫৯টি, কাহালুতে ৬৪টি, দুপচাঁচিয়ায় ২৪টি, ধুনটে ৯৮টি, নন্দীগ্রামে ৬২টি, বগুড়া সদরে ৩৪টি, শিবগঞ্জে ৭৯টি, শেরপুরে ৭৩টি, সারিয়াকান্দিতে ৯৮টি, সোনাতলায় ৭১টি এবং শাজাহানপুরে ৫০টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে।

শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পাওয়া সহকারী শিক্ষকদের নিয়মিত দাপ্তরিক কাজ, বিভিন্ন সভা-সেমিনারে অংশগ্রহণ, প্রতিবেদন তৈরি এবং সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নের কাজ করতে হয়। পাশাপাশি তাদের শ্রেণিকক্ষেও পাঠদান করতে হয়। ফলে স্বাভাবিক পাঠদান ও একাডেমিক কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটছে।

বিশেষ করে ছোট আকারের বিদ্যালয়গুলোতে এ সংকট আরও তীব্র। একজন সহকারী শিক্ষককে একই সঙ্গে শিক্ষকতা ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অতিরিক্ত চাপ সামলাতে হচ্ছে।
গাবতলী উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক অভিভাবক বলেন, ‘প্রধান শিক্ষক না থাকায় বিদ্যালয়ের নিয়মিত তদারকি ঠিকমতো হয় কি না, তা নিয়ে আমাদের উদ্বেগ থাকে। ভারপ্রাপ্ত শিক্ষকের ওপর একই সঙ্গে ক্লাস নেওয়া ও অফিসের কাজ করার চাপ থাকে। শেষ পর্যন্ত এর প্রভাব পড়ে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায়।’

আরেক অভিভাবক বলেন, ‘প্রাথমিক বিদ্যালয়েই শিশুদের শিক্ষার মূল ভিত্তি তৈরি হয়। সেখানে বছরের পর বছর প্রধান শিক্ষক না থাকলে শিক্ষার পরিবেশ ও শৃঙ্খলা দুটিই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দ্রুত এসব শূন্য পদ পূরণ করা প্রয়োজন।’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক সহকারী শিক্ষক বলেন, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বিভিন্ন দাপ্তরিক কাজ সামলাতে হয়। এর পাশাপাশি নিয়মিত ক্লাসও নিতে হয়। ফলে কাজের চাপ অনেক বেড়ে যায় এবং শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় সময় দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

আরেক শিক্ষক বলেন, প্রধান শিক্ষক থাকলে একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম আলাদাভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হয়। কিন্তু ভারপ্রাপ্ত দায়িত্বে একজন শিক্ষককেই দুই ধরনের কাজ সামলাতে হচ্ছে। এতে শিক্ষকদের ওপর মানসিক ও শারীরিক চাপ বাড়ছে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সাল থেকে এসব বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদগুলো পর্যায়ক্রমে শূন্য হতে শুরু করে। সাধারণত সহকারী শিক্ষকদের পদোন্নতি অথবা সরাসরি পদায়নের মাধ্যমে প্রধান শিক্ষকের পদ পূরণ করা হয়। তবে দীর্ঘদিন ধরে এ প্রক্রিয়া বন্ধ থাকায় প্রতিবছর শূন্য পদের সংখ্যা বাড়ছে।

বগুড়া জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. রেজোয়ান হোসেন বলেন, ২০১৩-১৪ সালের দিকে শিক্ষকদের জ্যেষ্ঠতা নিয়ে একটি মামলা হয়। মূলত ওই মামলার কারণেই প্রধান শিক্ষক পদে নতুন পদোন্নতি ও পদায়ন বন্ধ রয়েছে। প্রায় এক যুগ ধরে মামলাটি চলমান থাকায় এমন অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, কয়েক দিন আগে আদালতে মামলাটির একটি গুরুত্বপূর্ণ শুনানি হয়েছে। আমরা আশাবাদী, খুব শিগগিরই আইনি জটিলতা কেটে যাবে। জটিলতা কাটলে শূন্য পদগুলো দ্রুত পূরণ করা সম্ভব হবে। এতে বিদ্যালয়গুলোতে স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনা যাবে।

শিক্ষক ও অভিভাবকদের দাবি, মামলার নিষ্পত্তির অপেক্ষায় আর দীর্ঘ সময় না নিয়ে প্রয়োজন হলে বিকল্প কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হোক। তাদের মতে, প্রধান শিক্ষক না থাকায় শুধু প্রশাসনিক কার্যক্রমই নয়, বিদ্যালয়ের সামগ্রিক শিক্ষার মানও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই দ্রুত শূন্য পদ পূরণের মাধ্যমে বিদ্যালয়গুলোতে নিয়মিত পাঠদান ও একাডেমিক তদারকি নিশ্চিত করা জরুরি।

আমাদের জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল"প্রাণের শহর বিডি'র জন্য সারাদেশব্যাপী সাংবাদিক নিয়োগ চলছে। আগ্রহীরা অতিসত্বর যোগাযোগ করুন অথবা সিভি পাঠিয়ে দিন। সিভি পাঠানোর ইমেইল Mintuislam59@gmail.com, আমাদের দৈনিক প্রাণের শহর বিডি অনলাইনে সারাদেশের পাঠকরা নিউজ পাঠাতে পারেন" নিউজ পাঠানোর ইমেইল pranershohorbd@gmail.com এ। আমাদের খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো। বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।