https://pranershohorbd.net/wp-content/uploads/2022/09/logo-ps-1.png
ঢাকাFriday , 23 October 2026
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন-বিচার
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আবহাওয়া বার্তা
  6. কক্সবাজার
  7. কিশোরগঞ্জ
  8. কুড়িগ্রাম
  9. কুমিল্লা
  10. কুষ্টিয়া
  11. কৃষি বার্তা
  12. খাগড়াছড়ি
  13. খুলনা
  14. খেলাধুলা
  15. খোলা কলাম
আজকের সর্বশেষ সবখবর

​আইনজীবী হওয়ার বয়সসীমা ৩৫ বছর: নারীর সমতা, জাতীয় মেধা ও পেশার মান বাড়াতে পুনর্বিবেচনা জরুরি

admin
October 23, 2026 5:23 pm
Link Copied!

বাসুদেব কুমার দাস

​আইন পেশা কি কেবল নির্দিষ্ট বয়সসীমার চৌহদ্দিতে আবদ্ধ কোনো তরুণ সমাজের একক অধিকার? নাকি একজন মানুষের মেধা, প্রজ্ঞা, সততা ও ন্যায়বিচারের প্রতি আজীবন অঙ্গীকারের বহিঃপ্রকাশ? জীবনের নানা প্রতিকূলতা অতিক্রম করে যিনি আইন বিষয়ে উচ্চশিক্ষা অর্জন করেছেন, তিনি কি কেবল বয়সের ফ্রেমে আটকে থেকে এই মহান পেশায় প্রবেশের স্বপ্ন থেকে বঞ্চিত হবেন? এই প্রশ্ন গুলো বর্তমানে আইনজীবী, বিচারক, আইনের ছাত্র সহ সুশীল সমাজে আলোচিত বিষয় বস্তুতে পরিণত হয়েছে। ​বাংলাদেশ বার কাউন্সিল পরীক্ষায় অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৩৫ বছর বয়সসীমা নির্ধারণের যে আলোচনা ও সিদ্ধান্তের খবর সামনে এসেছে, তা নিয়ে আইনজীবী ও সুশীল সমাজে গভীর বিতর্ক সৃষ্টি হওয়া স্বাভাবিক।

 

এই বিতর্ক কেবল একটি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের যোগ্যতা নিয়ে নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে সাংবিধানিক অধিকার, নারী-পুরুষের সমান সুযোগ, আর্থিকভাবে অসচ্ছল মেধাবী তরুণদের টিকে থাকার সংগ্রাম, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা এবং একটি স্বাধীন পেশার মানোন্নয়নের প্রকৃত নীতি।
​সংবিধানের দৃষ্টিতে সমতা ও মৌলিক অধিকার
​আমাদের সংবিধানের ২৭ অনুচ্ছেদে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, ‘সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের সমান আশ্রয়লাভের অধিকারী।’ এছাড়া ২৮(২) অনুচ্ছেদে রাষ্ট্র ও গণজীবনের সব স্তরে নারী-পুরুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করার স্পষ্ট ঘোষণা রয়েছে। সংবিধানের ৩১ ও ৪০ অনুচ্ছেদে আইন অনুযায়ী সুযোগ লাভ এবং যে কোনো আইনসংগত পেশা বা বৃত্তি গ্রহণের স্বাধীনতার স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।

 

​প্রশ্ন হলো, বয়সসীমার এই কৃত্রিম দেয়াল কি সংবিধানের এই মৌলিক চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয়? সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের জনবল পরিকল্পনা, অবসরের বয়স ও প্রশাসনিক কাঠামোর হিসাব থাকে। কিন্তু আইনজীবী হওয়ার স্বাধীন পেশায় প্রবেশের প্রকৃতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। আইনজীবী হিসেবে একজন তালিকাভুক্ত হতে চাইলে তিন(৩) ধাপের কঠিন পরীক্ষা পাশ করার পর লাইসেন্স তথা আইন ব্যবসার উপযুক্ত হিসেবে বিবেচিত হন। একজন আইনজীবী কোনো বেতনভুক্ত সরকারি কর্মচারী নন। তিনি নিজের জ্ঞান, দক্ষতা ও নৈতিকতা দিয়ে বিচারপ্রার্থী মানুষকে সেবা দেন। বাংলাদেশের একজন আইনজীবী সরকারের নিকট থেকে তেমন কোন সাহায্য সহযোগিতা পান না বললেই চলে। তাই যোগ্যতা অর্জনের পর প্রার্থীর বয়সের কারণ দেখিয়ে পেশায় প্রবেশের সুযোগ বন্ধ করে দেওয়া সাংবিধানিক সমতার নীতির পরিপন্থী।

 

​নারীরাই কি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন?
​সুপ্রিম কোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসানের বক্তব্যের আলোকে বিষয়টি বিশেষভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। ৩৫ বছরের বয়সসীমা কার্যকর হলে নারীরা তুলনামূলকভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন।
​বাংলাদেশের সামাজিক বাস্তবতায় একজন নারীকে উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি বিবাহ, মাতৃত্ব, সন্তান লালন-পালন এবং পরিবারের অন্যান্য দায়িত্ব সামলাতে হয়। এসব সামাজিক ও পারিবারিক দায়বদ্ধতার কারণে অনেকের শিক্ষাজীবন দীর্ঘায়িত হয় কিংবা পড়াশোনায় সাময়িক বিরতি নিতে হয়। বহু নারী সংসারের ঘানি টেনে, সন্তানকে বড় করে জীবনের একটি পর্যায়ে এসে নিজের পরিচয় ও পেশাগত অবস্থান প্রতিষ্ঠার জন্য আইন ডিগ্রি অর্জন করেন। কিন্তু তালিকাভুক্তির সুযোগ পাওয়ার আগেই যদি বয়স ৩৫ পার হয়ে যায়, তবে তাঁর এত দিনের পরিশ্রম ও স্বপ্ন কেবল একটি সংখ্যার কাছে মূল্যহীন হয়ে যাবে।

 

​নারীর ক্ষমতায়নের কথা বলবো, অথচ জীবনের প্রতিকূলতা অতিক্রম করে পেশায় প্রবেশের সময় তাঁর সামনে বয়সের দেয়াল তুলে দেব—এমন নীতির যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে। নারী-পুরুষের জন্য কাগজে-কলমে একই বয়সসীমা নির্ধারণ করলেই বাস্তবে সমান সুযোগ নিশ্চিত হয় না, কারণ সামাজিক বাস্তবতায় তার প্রভাব নারীদের ওপর ভিন্নভাবে পড়ে।
​গরীব ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের জীবনসংগ্রাম:
​আইন পেশায় প্রবেশে বয়সসীমা আরোপের ফলে দেশের প্রান্তিক, সাধারণ ও অসচ্ছল পরিবারের মেধাবী সন্তানরা মারাত্মক প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়বেন। যাঁদের পেছনে পারিবারিক আর্থিক সচ্ছলতা থাকে না, তাঁরা গ্র্যাজুয়েশন শেষ করেই সরাসরি বারে যোগ দেওয়ার বা পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার বিলাসিতা করতে পারেন না।

 

​জীবিকা নির্বাহ এবং পরিবারের হাল ধরার জন্য তাঁদের প্রথমে টিউশনি, ছোটখাটো চাকরি বা অন্য কোনো কাজের সঙ্গে যুক্ত হতে হয়। এরপর নিজেদের আয়ে কষ্ট করে সঞ্চয় করে আইন বিষয়ে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেন। এই দীর্ঘ লড়াইয়ে অনেকেরই বয়স ৩০ বা ৩৫ অতিক্রম করে যায়। এরপর আছে স্নাতক ডিগ্রিধারী দের আইন নিয়ে পড়াশোনা শেষ করার এক অদম্য লড়াই। যেখানে আছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এর সেশন জটের চক্কর, দুই বছরের এল এল. বি ডিগ্রি অর্জন করতে চার থেকে পাঁচ বছর সময় ব্যয় হয়। মেধা, সততা ও ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও কেবল আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে যাঁদের পড়াশোনা শেষ করতে দেরি হয়েছে, বয়সের কারণে তাঁদের আইন পেশা থেকে বঞ্চিত করা এক ধরনের সামাজিক অবিচার। রাষ্ট্র বা বার কাউন্সিলের দায়িত্ব হওয়া উচিত সেই সংগ্রামশীল মেধাগুলোকে স্বাগত জানানো, তাদের পথ রুদ্ধ করা নয়।

 

​আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা কী বলে?
​বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আইন পেশায় প্রবেশের নিয়ম পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, সেখানে শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশাগত পরীক্ষা, নৈতিকতা ও প্রশিক্ষণের ওপরই জোর দেওয়া হয়; বয়সসীমাকে প্রধান বাধা করা হয় না।
​ভারত (CLAT ও বার কাউন্সিল): ভারতের Common Law Admission Test (CLAT)-এ অংশগ্রহণের জন্য কোনো সর্বোচ্চ বয়সসীমা নেই। এছাড়া ভারতের সুপ্রিম কোর্টের বিভিন্ন পর্যবেক্ষণেও আইন পেশায় যোগদানের ক্ষেত্রে বয়সসীমা আরোপ না করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যাতে অন্য পেশা থেকে আসা যোগ্য ব্যক্তিরাও আইনি সেবা দিতে পারেন।
​পাকিস্তান: পাকিস্তানের পাঞ্জাব বার কাউন্সিলসহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের শর্তাবলীতে ন্যূনতম ২১ বছর বয়স, স্বীকৃত আইন ডিগ্রি, নির্ধারিত শিক্ষানবিশি এবং LAW-GAT পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার কথা বলা হয়েছে। সেখানেও পেশাগত যোগ্যতাই প্রধান মানদণ্ড, কোনো সর্বোচ্চ বয়সসীমা নয়।

 

​নেপাল: নেপালের বার কাউন্সিল আইন অনুযায়ী আইনজীবীদের নিবন্ধনের জন্য নির্দিষ্ট আইন ডিগ্রি, শিক্ষানবিশি অভিজ্ঞতা এবং বার পরীক্ষায় পাস করা আবশ্যক। সেখানেও বয়সসীমার চেয়ে পেশাগত যোগ্যতাকে প্রাধান্য দেওয়া হয়।
​চীন: চীনে আইন পেশায় যুক্ত হতে জাতীয় আইনগত পেশাগত পরীক্ষায় পাস করা, আইনজীবী প্রতিষ্ঠানে এক বছরের শিক্ষানবিশি সম্পন্ন করা এবং নৈতিক উপযুক্ততার শর্ত পূরণ করতে হয়। সেখানে প্রধান শর্ত যোগ্যতা, নির্দিষ্ট বয়স নয়।
​ইংল্যান্ড ও ওয়েলস: Solicitors Qualifying Examination (SQE)-এর মাধ্যমে সলিসিটর হওয়ার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ডিগ্রি, পেশাগত পরীক্ষা এবং দুই বছরের কাজের অভিজ্ঞতা (Qualifying Work Experience) প্রয়োজন হয়। যোগ্যতাই সেখানে একমাত্র মাপকাঠি, বয়সের কোনো নির্দিষ্ট বাধা নেই।
​যুক্তরাষ্ট্র: যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিটি অঙ্গরাজ্যের আলাদা বার অ্যাসোসিয়েশন রয়েছে। সেখানে স্বীকৃত ল স্কুল থেকে ডিগ্রি অর্জন, বার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া এবং চরিত্র ও নৈতিক সততার (Character and Fitness) প্রমাণ দেওয়া বাধ্যতামূলক। কোনো রাজ্যেই প্রার্থীর বয়স বেশি বলে বার পরীক্ষায় বসতে বাধা দেওয়া হয় না।
​ইউরোপীয় ইউনিয়ন: জার্মানি সহ ইউরোপের অধিকাংশ দেশে আইন শিক্ষা ও রাষ্ট্রীয় পরীক্ষা (State Examination) পাশ করার পর পেশায় ঢোকার সুযোগ থাকে। সেখানে যোগ্যতা ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণই প্রধান মানদণ্ড।

 

​এই বৈশ্বিক দৃষ্টান্তগুলো থেকে স্পষ্ট যে, একটি মানসম্মত আইনি ব্যবস্থার জন্য দরকার কঠোর যোগ্যতা যাচাই, বয়সের কৃত্রিম সীমাবদ্ধতা নয়।
​দ্বিতীয় ক্যারিয়ারের সম্ভাবনা কেন রুদ্ধ হবে?
​আইন এমন একটি পেশা যেখানে জীবনের অভিজ্ঞতা, সামাজিক জ্ঞান ও প্রজ্ঞা অত্যন্ত মূল্যবান সম্পদ। একজন মানুষ প্রথম জীবনে শিক্ষকতা, সাংবাদিকতা, আমলাতন্ত্র, সিভিল সার্ভিস বা কর্পোরেট খাতে কাজ করার পর জীবনের দ্বিতীয় অধ্যায়ে আইন পেশায় আসতে চাইতে পারেন।
​অবসর গ্রহণের পর বা অন্য পেশার অভিজ্ঞতা নিয়ে যাঁরা আইন অঙ্গনে প্রবেশ করেন, তাঁরা গবেষণা, মানবাধিকার রক্ষা এবং বিচারব্যবস্থায় নতুন দৃষ্টিভঙ্গি যুক্ত করতে পারেন। বয়সের কঠোর সীমা আরোপ করলে জীবনের ‘দ্বিতীয় ক্যারিয়ার’ হিসেবে আইনকে বেছে নেওয়ার এই ন্যায়সংগত সুযোগ চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে।
​পেশার মান বাড়াতে বয়স নয়, মানদণ্ড শক্তিশালী হোক
​আইন পেশার মর্যাদা ও মান উন্নত করার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু পেশার মান বাড়াতে বয়স কমানো কোনো বৈজ্ঞানিক সমাধান হতে পারে না। মান উন্নত করতে হলে বার কাউন্সিলকে আধুনিক ও যুগোপযোগী পদক্ষেপ নিতে হবে:

 

​১. পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও মান বৃদ্ধি: বার কাউন্সিল তালিকাভুক্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র আন্তর্জাতিক মানের করা, মুখস্থনির্ভরতা কমিয়ে প্র্যাকটিক্যাল লিগ্যাল নলেজ যাচাই করা এবং মূল্যায়ন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বচ্ছ করা।
২. কঠোর শিক্ষানবিশি ও প্রশিক্ষণ: শিক্ষানবিশির সময়কাল কেবল কাগজে-কলমে না রেখে ব্যবহারিক ড্রাফটিং, কেস ম্যানেজমেন্ট ও কোর্ট প্রসিডিউরের ওপর বাধ্যতামূলক উন্নত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা।
৩. নৈতিকতা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিতকরণ: আইনজীবী নীতিমালা (Code of Ethics) কঠোরভাবে মেনে চলা হচ্ছে কি না তা তদারকি করা এবং পেশাগত অনিয়মের বিরুদ্ধে দ্রুত অনুশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া।

 

​নবীন আইনজীবীদের জন্য ভাতা ও আর্থিক নিরাপত্তা
​পেশার মানোন্নয়নের কথা বললে নবীন আইনজীবীদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। সনদ পাওয়ার পর প্রথম কয়েক বছর একজন নবীন আইনজীবীকে আদালতে পা রাখতে ও নিজের ভিত্তি তৈরি করতে চরম আর্থিক টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে যেতে হয়।
​সিনিয়র আইনজীবীদের কাছ থেকে উপযুক্ত ভাতা না পাওয়া এবং প্রারম্ভিক আয়ের অনিশ্চয়তার কারণে অনেক মেধাবী তরুণ না খেয়ে দিনাতিপাত করেন অথবা বাধ্য হয়ে অনৈতিক পথের দিকে ধাবিত হন। পেশার মর্যাদা রক্ষা করতে হলে এবং মেধাবীদের ধরে রাখতে হলে:
​বার কাউন্সিল ও সরকারি যৌথ তহবিল: বার কাউন্সিল ও সরকারের যৌথ উদ্যোগে নবীন আইনজীবীদের জন্য তালিকাভুক্তির প্রথম ২-৩ বছর নির্দিষ্ট পরিমাণ ‘গবেষণা ও জীবনযাত্রা ভাতা’ বা ‘স্টাইপেন্ড’-এর ব্যবস্থা করা উচিত।
​কল্যাণ তহবিল গঠন: জেলা বার সমিতিগুলোর মাধ্যমে নবীনদের প্রাথমিক চেম্বার সেটআপ ও আইনি গবেষণার সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।
​এই ন্যূনতম আর্থিক নিরাপত্তা পেলে তরুণ আইনজীবীরা কোনো অসদুপায় না অবলম্বন করে সততা, নিষ্ঠা ও স্বাধীন চেতনার সাথে আইনি লড়াই চালিয়ে যেতে পারবেন।

 

​উপসংহার: সুযোগের দরজা বন্ধ নয়, যোগ্যতার মান উন্নত হোক
​আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্তির সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩৫ বছর নির্ধারণের উদ্যোগটি দেশের বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী, নারী, দরিদ্র মেধাবী তরুণ এবং সচেতন নাগরিকদের জন্য উদ্বেগের কারণ। আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা, আমাদের সংবিধানের চেতনা এবং দেশের সামাজিক বাস্তবতার আলোকেও এই সিদ্ধান্ত যুক্তিযুক্ত নয়। ​একজন নারী পরিবারের দায়িত্ব পালন শেষে দেরিতে ডিগ্রি নিয়েছেন বলে তাঁর স্বপ্ন অযোগ্য হয়ে যায় না; একজন অসচল তরুণ টিউশনি করে দেরিতে পড়ালেখা শেষ করেছেন বলে তাঁর মেধা কমে যায় না।
​বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের নীতিনির্ধারকদের প্রতি আহ্বান—বয়সসীমার এই একরোখা সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা হোক। সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ, শিক্ষাবিদ ও আইনজীবী সমিতিগুলোর মতামত গ্রহণ করা হোক। বয়সের বাঁধাধরা নিয়ম না চাপিয়ে যোগ্যতা, দক্ষতা ও মেধার কঠোর মানদণ্ড তৈরি করা হোক এবং নবীনদের আর্থিক সুরক্ষার পথ সুগম করা হোক। বিচারব্যবস্থার মান বৃদ্ধিতে মেধার বিকাশ প্রয়োজন, বয়সের দেয়াল নয়।

বাসুদেব কুমার দাস
বি. এস.এস( অনার্স) এম.এস.এস
সরকারি আজিজুল হক কলেজ, বগুড়া
এলএল. বি(পার্ট-II)
বগুড়া আইন কলেজ, বগুড়া

আমাদের জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল"প্রাণের শহর বিডি'র জন্য সারাদেশব্যাপী সাংবাদিক নিয়োগ চলছে। আগ্রহীরা অতিসত্বর যোগাযোগ করুন অথবা সিভি পাঠিয়ে দিন। সিভি পাঠানোর ইমেইল Mintuislam59@gmail.com, আমাদের দৈনিক প্রাণের শহর বিডি অনলাইনে সারাদেশের পাঠকরা নিউজ পাঠাতে পারেন" নিউজ পাঠানোর ইমেইল pranershohorbd@gmail.com এ। আমাদের খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো। বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।