দৈনিক প্রাণের শহর বিডি ডেস্ক:
তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাবিতে এনসিপি-জামায়াতের দেশব্যাপী র্যালি এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করেছেন সাংবাদিক জুলকারনাইন। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাতে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এসব বিষয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন ও মতামত তুলে ধরেন।
জুলকারনাইন তাঁর পোস্টে বলেন, তেল-গ্যাস-বিদ্যুতের দাবিতে শতাধিক গাড়িবহর নিয়ে দেশব্যাপী র্যালি আয়োজনের বিষয়টি তাঁর কাছে ‘ইন্টারেস্টিং’। তাঁর প্রশ্ন, দেশে তেল-গ্যাসের সংকটের কথা বলার পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক গাড়ি নিয়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি ব্যবহারের বিষয়টি কীভাবে দেখা হচ্ছে।
তিনি র্যালিতে অংশ নেওয়া কারও কারও গাড়ির সানরুফ খুলে গণসংযোগ করার বিষয়টিও উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে ‘তেল দে, গ্যাস দে, নাইলে গদি ছাইড়্যা দে’—এমন স্লোগানের প্রসঙ্গ তুলে তিনি প্রশ্ন করেন, সরকার পদত্যাগ করলে পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব কার হাতে যাবে, সে বিষয়ে রাজনৈতিকভাবে আরও স্পষ্ট আলোচনা প্রয়োজন।
দেশের সাম্প্রতিক অপরাধ পরিস্থিতি নিয়েও মন্তব্য করেন জুলকারনাইন। তাঁর ভাষ্য, রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয় এবং মাদক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত পেশিশক্তি অপরাধ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হতে পারে। পাশাপাশি দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকা অবৈধ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সদস্যদের প্রকাশ্যে আসার বিষয়টিও তিনি উল্লেখ করেন।
তাঁর মতে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য শুধু দুর্বল পুলিশিংকে দায়ী না করে অপরাধীদের পেছনে থাকা প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং তাদের বিরুদ্ধে পুলিশ কেন কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারছে না, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
পুলিশ সংস্কার কমিশনের জনমত জরিপের তথ্য তুলে ধরে জুলকারনাইন বলেন, পুলিশের রাজনৈতিক ব্যবহার বন্ধের পক্ষে ৮৯ দশমিক ৫ শতাংশ এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করে পুলিশের দুর্নীতি বন্ধের পক্ষে ৭৭ দশমিক ৯ শতাংশ উত্তরদাতা মত দিয়েছেন। পুলিশ সংস্কার কমিশনের ‘কেমন পুলিশ চাই’ জরিপে ২৪ হাজার ৪৪২ জন মতামত দিয়েছিলেন।
জুলকারনাইন আরও বলেন, নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতির মতো বিষয় দেখভালের জন্য স্বাধীন পুলিশ কমিশন গঠন এবং ১৮৬১ সালের পুলিশ আইনের পরিবর্তে আধুনিক আইন প্রণয়নের মতো সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ ও পদায়নে অনিয়ম থাকলে এর প্রভাব আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে পড়তে পারে। তাঁর ভাষায়, ওসি বা ডিসির মতো পদ অর্থের বিনিময়ে পাওয়া গেলে শেষ পর্যন্ত সেই পদ অপরাধী চক্রের স্বার্থে ব্যবহৃত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
অপরাধ দমনে টেকনাফ, উখিয়া, চট্টগ্রাম ও ঢাকাসহ অপরাধপ্রবণ এলাকায় দক্ষ তদন্ত কর্মকর্তাদের পদায়নের পরামর্শও দেন তিনি। একই সঙ্গে কর্মকর্তাদের সম্পদের হিসাব নিয়মিত যাচাই, আধুনিক তদন্ত পদ্ধতি, ফরেনসিক ও সাইবার অপরাধ বিষয়ে প্রশিক্ষণ এবং পুলিশ সদস্যদের বেতন-ভাতা, চিকিৎসা ও আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন।
তবে অপরাধ দমনের নামে যেন নিপীড়নমূলক ব্যবস্থা নেওয়া না হয়, সে বিষয়েও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান জুলকারনাইন। ২০১৮ সালের মাদকবিরোধী অভিযানে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে তিনি প্রশ্ন করেন, ওই ধরনের অভিযান মাদক নিয়ন্ত্রণে কতটা কার্যকর হয়েছিল। তাঁর মতে, মাদক ব্যবসার ক্ষেত্রে বাহক বা খুচরা বিক্রেতার পাশাপাশি এর পেছনে থাকা বড় চক্র ও অর্থের উৎসের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
জুলকারনাইনের মতে, বাংলাদেশে আইন ও অভিযান—দুটিরই ঘাটতি নেই; বরং প্রয়োজন রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত, জবাবদিহিমূলক ও পেশাদার পুলিশ বাহিনী। তিনি সতর্ক করে বলেন, কার্যকর পুলিশিং নিশ্চিত করা না গেলে দেশে সহিংস অপরাধ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ধীরে ধীরে স্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
পোস্টের শেষাংশে তিনি বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের পুলিশ বাহিনীকে আরও সুসংগঠিত ও কার্যকর করার উদ্যোগের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন এবং এ ক্ষেত্রে সরকারের ভূমিকার ওপর জোর দেন।
পুলিশ সংস্কার কমিশনের ৮৯.৫% ও ৭৭.৯%–সংক্রান্ত তথ্য সরকারি কমিশনের প্রতিবেদনের সঙ্গে মিলে গেছে।

