এসএম ফারহান লাবিব (জেলা প্রতিনিধি, বগুড়া)
বগুড়ার শেরপুরে ভূমি অফিসের তহসিলদার-নায়েবদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে অনিয়ম, দুর্নীতি ও প্রশ্নবিদ্ধ কার্যক্রমের নানা অভিযোগ প্রকাশ্যে আসছে। বগুড়ার সুযোগ্য জেলা প্রশাসকের নির্দেশনা অনুযায়ী খাস, অর্পিত ও সেল অব এগ্রিমেন্টের জমি ব্যক্তি পর্যায়ে নামজারি নিষিদ্ধ হলেও অবৈধ সুবিধার বিনিময়ে এসব জমির নামজারির তথ্য মিলেছে। শেরপুর পৌর ভুমি উপ-সহকারি কর্মকর্তা (নায়েব) আব্দুস সালামের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ১ নম্বর কুসুম্বী ও পৌর ভূমি অফিসের দায়িত্ব পালন করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
সম্প্রতি জেলার ধুনট উপজেলা থেকে শেরপুর উপজেলার মির্জাপুর ও ভবানীপুর ভূমি অফিসের তহসিলদার হিসেবে যোগদানের উচ্চবিলাসী স্বপ্ন নিয়ে শেরপুরে আসেন অভিযুক্ত আব্দুস সালাম। তবে স্থানীয় প্রশাসনের জটিলতায় ভেস্তে যায় তার সেই স্বপ্ন। আর যোগদানের চেষ্টা ব্যর্থ হলে ক্ষোভ ও প্রতিহিংসা থেকে ফেসবুক, বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও সংবাদমাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তথ্য সরবরাহের অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে। সম্প্রতি মির্জাপুর ও ভবানীপুরের ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম এবং মির্জাপুরের ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা মোছা. স্বপ্না পারভীনকে নিয়েও এমন তথ্য ছড়ানো এবং প্রভাবিত করে ফেসবুকে পোস্ট প্রকাশে ক্ষুদ্ধ সচেতন মানুষ।
অভিযুক্ত আব্দুস সালামের বিরুদ্ধে টাউন কলোনিতে সংঘটিত নারী সংক্রান্ত ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে জরিমানা দেওয়ার ঘটনাও রয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া ফ্যাসিস্ট আ. লীগের তৎকালীন শেরপুর-ধুনট আসনের এমপি পুত্রকে কুসুম্বী ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তফসিলদার হিসেবে পুনরায় দায়িত্ব পাওয়ার আশায় তিনি ৫ লাখ টাকা উৎকোচ দিয়েছিলেন। এ সময় সেখানে সাংবাদিকের উপস্থিতি ছিল বলে জানা গেছে। অভিযুক্ত নায়েবের অনুরোধেই জনৈক সাংবাদিক তার সঙ্গে সেখানে যেতে রাজি হয়েছিলেন। আর সে কারণেই উৎকোচ প্রদানের সময় ঘটনাস্থলে সাংবাদিকের উপস্থিতি ছিল। তবে উৎকোচ দেওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই আ. লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ায় তার সেই কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জিত হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে টাকা দিয়ে আক্ষেপ করছেন বিগত সরকারের পতনের জন্য। এ ব্যাপারে একাধিক ব্যক্তির কাছে নিজের হতাশা ব্যক্ত করেছেন তিনি।
এছাড়াও নায়েব আব্দুস সালামের বগুড়া জেলা পরিষদের আশপাশে একটি ফ্ল্যাট বাসার মালিকানা রয়েছে বলে জানা গেছে। ওই বাসাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধ ও উত্তেজনার জেরে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের তথ্যও পাওয়া গেছে। অন্যদিকে, কুসুম্বী ইউনিয়নের অসংখ্য খাস ও অর্পিত সম্পত্তি খারিজ করে দেওয়ার তথ্য রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এ বিষয়সহ আব্দুস সালামের বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে অনুসন্ধান চলছে। অনুসন্ধানে আরও সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেলে ধারাবাহিকভাবে তা প্রকাশ করা হবে।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত তহসিলদার আব্দুস সালামের বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোন নম্বর ০১৭১৪-৫১১৬৭৩-এ একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন না ধরায় তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি। তার বিরুদ্ধে আরও অনিয়ম-দুর্নীতির তথ্য রয়েছে এবং তা বর্তমানে অনুসন্ধানাধীন।

