এম,এ রাশেদ,স্টাফ রিপোর্টারঃ বগুড়ায় দায়ের হওয়া গণধর্ষণ মামলার এজাহারনামীয় পলাতক আসামি মো. হৃদয় (৩০), কে গাজীপুরের টঙ্গী পূর্ব থানাধীন চেরাগ আলী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাতে র্যাব-১২-এর সিপিএসসি বগুড়া ও র্যাব-১-এর সিপিএসসি পোড়াবাড়ী ক্যাম্পের যৌথ অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার হৃদয় বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার চক সৈয়দপুর গ্রামের মো. জহুরুল ইসলামের ছেলে।
র্যাব সূত্রে জানা যায়, বগুড়া সদর থানায় দায়ের করা গণধর্ষণ মামলার পর থেকে হৃদয় আত্মগোপনে ছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব জানতে পারে, গ্রেপ্তার এড়াতে তিনি গাজীপুরের টঙ্গী পূর্ব থানার চেরাগ আলী এলাকায় অবস্থান করছেন। পরে র্যাব-১২, সিপিএসসি বগুড়া এবং র্যাব-১, সিপিএসসি পোড়াবাড়ী ক্যাম্পের একটি যৌথ অভিযানিক দল সেখানে অভিযান পরিচালনা করে।
শুক্রবার রাত আনুমানিক ১০টা ৫৭ মিনিটে চেরাগ আলী এলাকার মা ফার্মেসির সামনে থেকে হৃদয়কে গ্রেপ্তার করা হয়।
মামলার এজাহার ও র্যাবের তথ্যমতে, ভুক্তভোগী ৩৪ বছর বয়সী এক নারীর স্বামী প্রায় চার বছর ধরে প্রবাসে অবস্থান করছেন। এনজিও থেকে ঋণ নেওয়ার বিষয়ে ১ নম্বর আসামির সঙ্গে ওই নারীর পরিচয় হয়। পরবর্তীতে ওই ব্যক্তি কৌশলে ভুক্তভোগীর মোবাইল ফোন নিয়ে তাকে নিজের বাড়ি থেকে ফোনটি নিয়ে যেতে বলেন।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়, ভুক্তভোগী মোবাইল ফোন আনতে ওই ব্যক্তির বাড়িতে গেলে সেখানে কেউ না থাকার সুযোগে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়। এ সময় ঘটনার ভিডিও ও ছবি ধারণ করে রাখা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে ওই ভিডিও ও ছবি দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয় বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বগুড়া সদর থানায় মামলা করেন। মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(৩) ধারায় করা হয়েছে। মামলার এফআইআর নম্বর ৯৭, তারিখ ২২ আগস্ট ২০২৬; জিআর নম্বর ৭৩৪।
র্যাব জানায়, গ্রেপ্তার হৃদয় মামলার এজাহারনামীয় পলাতক আসামিদের একজন। গ্রেপ্তারের পর তাকে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বগুড়া সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
র্যাব-১২ জানিয়েছে, অপরাধ দমনে এবং বিভিন্ন মামলার পলাতক আসামিদের আইনের আওতায় আনতে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

