ঢাকা প্রতিনিধি:
বিমান বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফ সাউরির ভাসমান লাশ উদ্ধারের স্থান থেকে প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার দূরে একটি নম্বরপ্লেটবিহীন মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। উদ্ধার করা মোটরসাইকেলটি তাহসিফের বলে জানিয়েছেন পিবিআই প্রধান মোস্তফা কামাল। তবে এর মালিকানা ও সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো যাচাই করে দেখছেন তদন্তকারীরা।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকালে পিবিআই প্রধান মোস্তফা কামাল জানান, টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকা থেকে মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে পিবিআই সদর দপ্তরের পুলিশ সুপার আবু ইউসুফ এক বার্তায় জানান, তুরাগ নদ থেকে আনুমানিক ৫০ গজ দূরে মোটরসাইকেলটি পাওয়া যায়।
পিবিআইয়ের এক পুলিশ সুপার জানান, তাহসিফের বন্ধুস্থানীয় ছোটভাই আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপের দেখানো মতে মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়েছে। নম্বরপ্লেট না থাকায় এর মালিকানা যাচাই করা হচ্ছে। বাসা থেকে বের হওয়ার সময় তাহসিফের মোটরসাইকেলেও নম্বরপ্লেট ছিল না বলে সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে।
গত বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে তাহসিফের ভাসমান লাশ উদ্ধার করা হয়। ওই স্থান উত্তরখান থানার আওতাধীন। অন্যদিকে মোটরসাইকেল উদ্ধারের স্থান টঙ্গী পশ্চিম থানার অধীন। দুই এলাকার সঙ্গেই তুরাগ নদের সংযোগ রয়েছে।
তাহসিফ নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাতে আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপকে হেফাজতে নেয় পিবিআই ঢাকা মেট্রো উত্তর। পিবিআই প্রধান মোস্তফা কামাল জানান, দীপকে হেফাজতে নেওয়ার পর বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। তবে তদন্তের স্বার্থে আপাতত সেসব তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে না।
তাহসিফের বাবা এনায়েতুল করিমের ভাষ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় দীপের ফোনকল পেয়ে বাসা থেকে বের হন তাহসিফ। রাত ১টা ৩৫ মিনিটের দিকে মায়ের মোবাইল ফোনে একটি বার্তা পাঠিয়ে তিনি বাসায় ফিরছেন বলে জানান।
তবে বার্তাটিতে তাহসিফকে কিছুটা ব্যস্ত মনে হয়েছিল বলে বৃহস্পতিবার দুপুরে জানান তাঁর বাবা। এরপর থেকে তাঁর আর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। যদিও তাহসিফের এক নিকটাত্মীয় দাবি করেছেন, মায়ের মোবাইল ফোনে সর্বশেষ পাঠানো কণ্ঠবার্তাটি তাঁর কাছে তাহসিফের বলে মনে হয়নি।
বিমান বাহিনীর সাবেক এই কর্মকর্তা রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়ির বাসা থেকে নিজের মোটরসাইকেল নিয়ে বের হয়েছিলেন। তাঁর লাশ উদ্ধারের সময় নৌপুলিশ হাতঘড়ি ও মানিব্যাগ পেলেও মোটরসাইকেলটির সন্ধান পায়নি।
এর আগে বৃহস্পতিবার বিকেলে দীপ জানিয়েছিলেন, বাসা থেকে বের হওয়ার পর তাঁরা তাহসিফের মোটরসাইকেল মেরামতের জন্য একটি গ্যারেজে যান। সেখান থেকে উত্তরার রুয়াপ শপিং কমপ্লেক্সের ‘কুকরুকু’ রেস্তোরাঁয় রাতের খাবার খান।
পরে দুজন নিজেদের মোটরসাইকেলে করে ফিরছিলেন। উত্তরা হাউস বিল্ডিং এলাকা পর্যন্ত তাঁরা একসঙ্গে ছিলেন। রাত আনুমানিক ১২টার দিকে দুজন আলাদা হয়ে যান। এরপর তিনি নিজ বাসায় ফিরে গেলেও তাহসিফের বিষয়ে আর কিছু জানেন না বলে দাবি করেন দীপ।
দীপ একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্প্রতি স্নাতক সম্পন্ন করেছেন। তাঁর বাসা রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল এলাকায় বলে জানিয়েছেন তিনি।
পিবিআই প্রধান মোস্তফা কামাল শুক্রবার সকালে আরও জানান, মোটরসাইকেল মেরামত ও রেস্তোরাঁয় যাওয়ার বাইরে তাহসিফ ও দীপ অন্য কোথাও গিয়েছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থান ও তথ্য যাচাই করে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

