ঢাকা প্রতিনিধি:
ঢাকা, ২৬ জুন ২০২৬:
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়া ও চীন সরকারের আমন্ত্রণে তাঁর প্রথম সরকারি বিদেশ সফর সফলভাবে সম্পন্ন করে আজ শুক্রবার (২৬ জুন) দেশে ফিরেছেন। এ সময় তাঁর সফরসঙ্গী হিসেবে ছিলেন সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান।
সন্ধ্যা ৭টা ৪৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী চায়না সাউদার্ন এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ সরকারের মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, উপদেষ্টা, সংসদ সদস্য এবং ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা।
ছয় দিনের এই সরকারি সফরের প্রথম দুই দিন (২১–২২ জুন) প্রধানমন্ত্রী মালয়েশিয়ায় অবস্থান করেন। সেখানে প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে একান্ত ও দ্বিপাক্ষিক বৈঠক, যৌথ সংবাদ ব্রিফিং এবং বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন। সফর শেষে তিনি মালয়েশিয়া সরকারের আন্তরিক আতিথেয়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
পরবর্তীতে ২৩ ও ২৪ জুন চীনের লিয়াওনিং প্রদেশের দালিয়ানে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (WEF) সামার দাভোস সম্মেলনে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি “Climate Leadership in a Shifting Global Landscape” শীর্ষক অধিবেশনে বক্তব্য রাখেন এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বৈশ্বিক সহযোগিতা, প্রযুক্তি ও অর্থায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধান ও বিশ্বনেতাদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক ও মতবিনিময় করেন।
২৪ জুন দালিয়ান থেকে বেইজিং পৌঁছে ২৬ জুন পর্যন্ত বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় কর্মসূচিতে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। সফরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্বে তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান ঝাও লেজি এবং রাষ্ট্রীয় পরিষদের প্রিমিয়ার লি চিয়াংয়ের সঙ্গে পৃথক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন।
প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে দুই নেতা যৌথভাবে ‘বাংলাদেশ–চীন অভিন্ন ভবিষ্যতের অংশীদারিত্ব’ গড়ে তোলার ঘোষণা দেন। এর মাধ্যমে দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও উচ্চতর পর্যায়ে উন্নীত করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
২৫ জুন প্রিমিয়ার লি চিয়াং প্রধানমন্ত্রীকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় লাল গালিচা সংবর্ধনা ও গার্ড অব অনার প্রদান করেন। বৈঠক শেষে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ১৩টি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়, যা বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অবকাঠামো উন্নয়ন, পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং কৌশলগত সহযোগিতা আরও জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সফরকালে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) আয়োজিত ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’ সেমিনারে প্রধান বক্তা হিসেবে বাংলাদেশের বিনিয়োগ সম্ভাবনা তুলে ধরেন। এছাড়া চীনের কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী এবং পানিসম্পদমন্ত্রীর সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন।
চীন সফরের শেষ দিনে প্রধানমন্ত্রী চীনের কমিউনিস্ট পার্টির ইতিহাস ও ঐতিহ্যবিষয়ক জাদুঘর পরিদর্শন করেন। পরে বেইজিং ড্যাক্সিং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হলে তাঁকে বিদায় জানান চীনের প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত ইউয়ে শিয়াওইয়ং।
উল্লেখ্য, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর মালয়েশিয়া ছিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম সরকারি বিদেশ সফর এবং চীন ছিল তাঁর দ্বিতীয় সরকারি বিদেশ সফরের গন্তব্য।

