এম,এ রাশেদ,স্টাফ রিপোর্টারঃ বগুড়ার ধুনট উপজেলায় বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে হামলা-ভাঙচুর, যুবদল নেতার ওপর ককটেল হামলা এবং মশাল মিছিল ও ককটেল বিস্ফোরণের মাধ্যমে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির অভিযোগে দায়ের করা পৃথক তিনটি মামলার এজাহারভুক্ত পলাতক আসামি সোহানুর রহমান ওয়াসিম (৩২) নামে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের এক নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (২৬ জুন ২০২৬) সকাল পৌনে ৭টার দিকে উপজেলার এলাঙ্গী ইউনিয়নের নলডাঙ্গা গ্রামে নিজ বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার হওয়া ওয়াসিম উপজেলার এলাঙ্গী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি এবং মোফাজ্জল হোসেন মাস্টারের ছেলে।
ধুনট থানা সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ৭ জুন সন্ধ্যায় ধুনট পৌর এলাকার পশ্চিম ভারনশাহী গ্রামে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে কর্মিসভা চলাকালে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় ককটেল বিস্ফোরণ, ভাঙচুর ও মারধরের ঘটনায় বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন। হামলায় দলীয় কার্যালয় ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করে প্রায় দেড় লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়। এ ঘটনায় ২০২৫ সালের ২৬ জানুয়ারি উপজেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক আশাদুল ইসলাম বাদী হয়ে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ৭৮ জন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে ধুনট থানায় মামলা দায়ের করেন।
এ ছাড়া, ২০২৫ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ধুনট শহরের শহীদ মিনার চত্বরে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা মশাল মিছিল বের করে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সময় যুবদল নেতা রিপন শেখ ও তার সহযোগীরা বাধা দিলে তাদের লক্ষ্য করে ককটেল নিক্ষেপ করা হয়। এতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় দুই দিন পর, ১৯ ফেব্রুয়ারি, ধুনট পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রিপন শেখ বাদী হয়ে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ৯৬ জন নেতাকর্মীকে আসামি করে আরেকটি মামলা দায়ের করেন।
অপরদিকে, গত ৩০ নভেম্বর রাতে উপজেলার চৌকিবাড়ি ইউনিয়নের ভুবনগাঁতি গ্রামের তিনমাথা এলাকায় আওয়ামী লীগের শতাধিক নেতাকর্মী মশাল মিছিল বের করে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করেন বলে অভিযোগ করা হয়। এ ঘটনায় ১০ ডিসেম্বর গোপালনগর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রাজু আহমেদ বাদী হয়ে ধুনট থানায় একটি মামলা করেন। ওই মামলায় ৩৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৬০ থেকে ৭০ জনকে আসামি করা হয়।
ধুনট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আতিকুল ইসলাম জানান, পৃথক তিনটি মামলার এজাহারভুক্ত আসামি সোহানুর রহমান ওয়াসিম দীর্ঘদিন আত্মগোপনে ছিলেন। তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে আসছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার সকালে তার নিজ বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আদালতের মাধ্যমে তাকে বগুড়া জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, এসব মামলার অন্যান্য পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

