এম,এ রাশেদ,স্টাফ রিপোর্টারঃ নাগরিক সেবা আরও কার্যকর ও জনবান্ধব করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্বশীলতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন বগুড়ার জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. তৌফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, সেবা নিতে আসা কোনো নাগরিককে অবহেলা বা তুচ্ছতাচ্ছিল্য করা যাবে না। তাদের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনে দ্রুত ও যথাযথ সেবা নিশ্চিত করতে হবে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে নন্দীগ্রাম পৌরসভার ধানসিঁড়ি সভাকক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শারমিন আরার সভাপতিত্বে প্রশাসনিক কার্যক্রম, নাগরিক সেবার মানোন্নয়ন, উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি, মশক নিধন কার্যক্রম জোরদার এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে পরিকল্পিত উদ্যোগসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
জেলা প্রশাসক বলেন, আধুনিক ও মানসম্মত সেবা দিতে হলে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ করতে হবে। সেবার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের গাফিলতি গ্রহণযোগ্য নয়। জনগণের কল্যাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রোহান সরকার, পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন মাহমুদ, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইকবাল মাহমুদ লিটন, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সরদার ফজলুল করিম, নন্দীগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিকুল ইসলাম, সমাজসেবা কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফাসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
এর আগে জেলা প্রশাসক নন্দীগ্রাম পৌরসভা পরিদর্শন করে সার্বিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন। পরে পৌরসভা ও উপজেলা ভূমি অফিস চত্বরে বৃক্ষরোপণ করেন তিনি।
এছাড়া উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়, বৈলগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন, ৫৩ শিক্ষার্থীর মধ্যে স্কুলব্যাগ বিতরণ এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় খাল খনন, পুনঃখনন ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পের কার্যক্রম পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নন্দীগ্রাম উপজেলার দুটি গুরুত্বপূর্ণ খাল পুনরুদ্ধার প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে বুড়ইল ইউনিয়নের সিধইল খাল ও ভাটরা ইউনিয়নের শালুকা খাল পুনঃখননে সরকারি বরাদ্দ ছিল ১ কোটি ২৩ লাখ টাকা। কাজ শেষে অব্যয়িত প্রায় ৬০ লাখ টাকার বেশি অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

