এম,এ রাশেদ,স্টাফ রিপোর্টারঃ বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার দারিয়াপুর মৌজার পীরপাল নামে পরিচিত আবাদি জমি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। জমির দখল ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে আদালতে পাল্টাপাল্টি মামলা হওয়ার পাশাপাশি আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্যের অভিযোগও উঠেছে। স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন, দ্রুত সমাধান না হলে পরিস্থিতি সংঘর্ষের দিকে গড়াতে পারে।
স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জমিদার আমলে দান করা প্রায় ৪ একর ৩৬ শতক জমি দীর্ঘদিন ধরে একটি পরিবারের জিম্মায় চাষাবাদ হয়ে আসছে। বর্তমান জিম্মাদার হিসেবে দাবি করছেন হাটকড়ই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এস এম মামুন আলম। তিনি জানান, তার পরিবার ওয়ারিশসূত্রে জমিটির দখল ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করে আসছে।
মামুন আলমের দাবি, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে গ্রামের কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির সঙ্গে জমি-সংক্রান্ত আলোচনায় বিরোধ সৃষ্টি হয়। পরে প্রতিপক্ষ জমি দখল ও ধান কাটার হুমকি দিলে তিনি আদালতের শরণাপন্ন হন। আদালত বিবাদীদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। তবে সেই নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে সম্প্রতি জমিতে ধান রোপণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, আদালতের আদেশ কার্যকর করার জন্য থানায় একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও কাঙ্ক্ষিত সহযোগিতা পাননি। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে একটি পাল্টা মামলা করা হয়েছে, যা তিনি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন।
অন্যদিকে, পাল্টা মামলার বাদী সেলিম রেজা বলেন, গ্রামের স্বার্থে যা প্রয়োজন, সেটিই করা হচ্ছে। তবে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্যের অভিযোগ সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এস এম সারওয়ার জাহান বলেন, শিক্ষকের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগটি ব্যক্তিগত এবং প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। শিক্ষা বিভাগে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগও জমা পড়েনি। আদালতের নির্দেশনা পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নন্দীগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ তারিকুল ইসলাম বলেন, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী উভয় পক্ষকে অবহিত করা হয়েছে এবং তারা শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার বিষয়ে লিখিতভাবে অঙ্গীকার করেছে। আদালতের আদেশ অমান্যের বিষয়ে নতুন নির্দেশনা পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রোহান সরকার বলেন, এ বিষয়ে তার কার্যালয়ে কোনো অভিযোগ আসেনি। বিষয়টি বর্তমানে আদালতের বিচারাধীন। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালিত হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা পুলিশের দায়িত্ব বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এলাকাবাসীর একাংশের দাবি, বিরোধের দ্রুত ও আইনসম্মত নিষ্পত্তি না হলে স্থানীয়ভাবে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে। সংশ্লিষ্টরা আদালতের নির্দেশনা মেনে শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন।

