এম,এ রাশেদ,স্টাফ রিপোর্টারঃ বগুড়ার শিবগঞ্জে বসতবাড়ির সীমানা প্রাচীর নির্মাণকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে বাবা-ছেলেসহ তিনজন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের সময় নির্মাণাধীন প্রাচীর ভাঙচুর এবং একটি বাড়িতে হামলার অভিযোগ উঠেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও থানায় দেওয়া অভিযোগ থেকে জানা গেছে, শিবগঞ্জ উপজেলার রায়নগর বন্দরের বাসিন্দা শফিকুল ইসলামের সঙ্গে একই এলাকার জিল্লুর রহমানের দীর্ঘদিন ধরে জমির সীমানা ও চলাচলের পথ নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এরই মধ্যে শফিকুল ইসলাম নিজ জায়গায় সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কাজ শুরু করেন।
অভিযোগ রয়েছে, প্রাচীর নির্মাণের সময় জিল্লুর রহমানের নেতৃত্বে কয়েকজন ব্যক্তি সেখানে গিয়ে কাজে বাধা দেন। একপর্যায়ে নির্মাণ করা প্রাচীর ভেঙে ফেলা হয়। এ সময় শফিকুল ইসলাম ও তার পরিবারের সদস্যরা বাধা দিলে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়।
হামলায় শফিকুল ইসলাম (৪৬), তার ছেলে সৌরভ মিয়া (২১) এবং স্কুলছাত্র সোহান (১৭) আহত হন। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে শফিকুল ইসলামের অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে পাঠান।
আহত শফিকুল ইসলামের ছেলে সৌরভ মিয়া অভিযোগ করেন, পৈতৃক সম্পত্তির সীমানায় প্রাচীর নির্মাণ করতে গেলে প্রতিপক্ষ রাস্তা তৈরির কথা বলে কাজে বাধা দেয়। পরে তারা নির্মাণ করা প্রাচীর ভেঙে বাড়িতে প্রবেশ করে হামলা চালায়। এতে পরিবারের তিনজন আহত হন।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জিল্লুর রহমান। তিনি বলেন, চলাচলের সুবিধার জন্য শফিকুল ইসলাম সীমানার পাশে এক ফুট জায়গা ছেড়ে প্রাচীর নির্মাণের কথা জানিয়েছিলেন। কিন্তু পরে তিনি সেই সিদ্ধান্ত না মেনে পুরো জায়গাজুড়ে প্রাচীর নির্মাণ শুরু করেন। এ কারণে স্থানীয়ভাবে তাকে কাজে বাধা দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
শিবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহীনুজ্জামান শাহীন বলেন, ঘটনাটি পুলিশ জানতে পেরেছে এবং এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগও পাওয়া গেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

