এম,এ রাশেদ,স্টাফ রিপোর্টারঃ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত মাদকবিরোধী যৌথ অভিযানে রংপুর মহানগরী থেকে ১২ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। এ সময় ইয়াবা বহনের অভিযোগে মুনছুর মন্ডল ওরফে বুদা (৫০) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বুধবার (১ জুলাই ২০২৬) মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, জেলা কার্যালয় বগুড়া ও জেলা কার্যালয় রংপুরের সমন্বয়ে পরিচালিত এ অভিযানে রংপুর মহানগরীর কোতয়ালী মেট্রো থানাধীন কামাল কাছনা এলাকার জাহাজ কোম্পানি থেকে সাতমাথাগামী জে.এল. রায় রোডের দক্ষিণ পাশে অবস্থিত এস.এ. পরিবহন (প্রা.) লি. অফিস থেকে তাকে আটক করা হয়।
ডিএনসি সূত্র জানায়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, চট্টগ্রাম থেকে রংপুরে এস.এ. পরিবহনের মাধ্যমে একটি ইয়াবার চালান পৌঁছেছে। তথ্যের সত্যতা যাচাই শেষে বগুড়া জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. জিললুর রহমানের নেতৃত্বে এবং রংপুর জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. আবু জাফরের নেতৃত্বাধীন যৌথ দল অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানকালে গ্রেপ্তার হওয়া মুনছুর মন্ডল ওরফে বুদার হাতে থাকা একটি সাদা প্লাস্টিকের বস্তা তল্লাশি করা হয়। তল্লাশিতে বিভিন্ন চা-পাতা ও ধনিয়ার সংমিশ্রিত মোট ৫৭টি প্যাকেটের মধ্যে ‘কোয়ালিটি গোল্ড’ নামীয় তিনটি চা-পাতার প্যাকেটের ভেতর বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা ১২ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে তার কাছ থেকে দুটি মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার হওয়া আসামি মো. মুনছুর মন্ডল ওরফে বুদা (৫০), পিতা মৃত জালাল মন্ডল। তার বাড়ি রংপুর জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার কুমেদপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাঞ্চনপুর গ্রামে।
এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) সারণির ৯(গ) ও ২৬(১) ধারায় রংপুর কোতয়ালী মেট্রো থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার বাদী হয়েছেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, জেলা কার্যালয় বগুড়ার উপ-পরিদর্শক মো. তাহিদুল আলম।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, উদ্ধার হওয়া ইয়াবার এই চালানের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।
ডিএনসি আরও জানায়, সমাজ থেকে মাদকের বিস্তার রোধে সারা দেশে মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করা হবে এবং মাদক পাচার ও কারবারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।

