স্টাফ রিপোর্টার:
বগুড়ার ধুনটে বাঁশঝাড় থেকে উদ্ধার হওয়া এক নবজাতক ছেলে শিশুকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার গোশাইবাড়ি ইউনিয়নের পূর্বগুয়াডহরী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, পূর্বগুয়াডহরী গ্রামের কৃষক মিজানুর রহমান সকাল ৮টার দিকে ধুনট-গোশাইবাড়ি সড়কের মসজিদসংলগ্ন বাঁশঝাড়ে গোখাদ্যের জন্য বাঁশপাতা সংগ্রহ করতে যান। এ সময় বাঁশঝাড়ের ভেতর থেকে শিশুর কান্নার শব্দ শুনতে পান তিনি। পরে সেখানে গিয়ে একটি নবজাতক ছেলে শিশুকে পড়ে থাকতে দেখে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসেন।
শিশুটিকে বাড়িতে নেওয়ার পর মিজানুর রহমানের স্ত্রী শেফালী খাতুন তাকে কোলে নিয়ে পরিচর্যা শুরু করেন। খবর ছড়িয়ে পড়লে শিশুটিকে দেখতে তাঁদের বাড়িতে স্থানীয়দের ভিড় জমে যায়। স্থানীয়দের ধারণা, কেউ নবজাতকটিকে বাঁশঝাড়ে রেখে গেছে।

পরে এলাকাবাসীর সহায়তায় শেফালী খাতুন শিশুটিকে ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শিশুটি বর্তমানে সুস্থ ও স্বাভাবিক রয়েছে এবং খাবার গ্রহণ করছে।
শেফালী খাতুন বলেন, ‘দাম্পত্য জীবনে আমার চার মেয়ে সন্তান রয়েছে। আমার ছেলে সন্তান নেই। তাই আল্লাহ আমাকে একটি ছেলে সন্তান দিয়েছেন। আমি সকাল থেকেই কুড়িয়ে পাওয়া নবজাতককে পরম মাতৃস্নেহে আদর-যত্ন করছি। আমি এই শিশুকে মাতৃস্নেহে লালন-পালন করতে চাই।’
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সাজ্জাদ কদির বলেন, ‘নবজাতক শিশুটি সুস্থ ও স্বাভাবিক আছে। তাকে হাসপাতালে ভর্তি রেখে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।’
ধুনট উপজেলা শিশু কল্যাণ বোর্ডের সদস্যসচিব ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আবদুল্লাহেল কাফি বলেন, নবজাতক উদ্ধারের বিষয়টি জানার পর শিশু কল্যাণ বোর্ডের সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। শেফালী খাতুন শিশুটির পরিচর্যা করছেন। তিনি শিশুটিকে লালন-পালন করতে চাইলে নিয়ম অনুযায়ী দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফ উল্লাহ নিজামী বলেন, উদ্ধার হওয়া শিশুটির বাবা-মায়ের সন্ধান পাওয়া যায়নি। কোনো ব্যক্তি শিশুটিকে লালন-পালন করতে চাইলে উপজেলা শিশু কল্যাণ বোর্ডের মাধ্যমে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শেফালী খাতুন বর্তমানে শিশুটির পরিচর্যা করছেন। তিনিও শিশুটিকে লালন-পালন করতে চাইলে নিয়ম অনুযায়ী তাঁর বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

