টাঙ্গাইল প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের বাসাইলে ১০ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন একটি সেতুর ফুটপাতের স্ল্যাব তৈরিতে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহার করে ঢালাই দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরে উপজেলা প্রকৌশল দপ্তরের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নিম্নমানের কাজ ভেঙে পুনরায় করার কথা জানিয়েছেন।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে বাসাইল পৌরসভার মাইজখাড়া এলাকায় মরাগাঙ্গী নদীর ওপর নির্মাণাধীন সেতুতে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাতের আঁধারে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন ফুটপাতের স্ল্যাব তৈরিতে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহার করে ঢালাইয়ের কাজ শুরু করেন। স্থানীয়রা বিষয়টি দেখতে পেয়ে বাধা দিলে সাময়িকভাবে কাজ বন্ধ হয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা চলে যাওয়ার পর আবার রাতে ঢালাইয়ের কাজ শেষ করা হয় বলে অভিযোগ করেন তারা।
এ সময় স্থানীয়রা ঘটনাটি মোবাইল ফোনে ধারণ করেন। পরে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিষয়টি জানতে পেরে বাসাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন ও উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাত্তাউর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
জানা গেছে, বাসাইল জিসি-কাউলজানী ইউপি অফিস ভায়া মাইজখাড়া জিপিএস সড়কে ৯০ দশমিক ৬ মিটার দৈর্ঘ্যের পিএসসি গার্ডার সেতুটি নির্মাণের কাজ পায় মেসার্স ইউনুছ আল মামুন-মেসার্স জাকির এন্টারপ্রাইজ (জেবি)। সেতুটি নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ১০ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার টাকা। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে কাজ শুরু হয় এবং ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। পরে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়। বর্তমানে সেতুটির প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নির্মাণকাজ শুরুর পর থেকেই সেতুটির কাজ নিয়ে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। সর্বশেষ ফুটপাতের স্ল্যাবে বাঁশ ব্যবহার করে ঢালাই দেওয়ার বিষয়টি তাদের নজরে আসে। তারা নিম্নমানের কাজ ভেঙে রড ব্যবহার করে পুনরায় ঢালাই করার পাশাপাশি দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
তবে ঠিকাদার এসএম জাহাঙ্গীর অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, রেলিংয়ের পাশে ফুটপাতের স্ল্যাবে চার ইঞ্চি ঢালাই রয়েছে। স্ল্যাবের নিচে শাটারিং করতে হয়, যা পরে সরানো সম্ভব নয়। এ ধরনের শাটারিংয়ের জন্য বাঁশ বা কাঠ ব্যবহার করা হয়। এরপর রডের খাঁচা ও পলিথিন দিয়ে তার ওপর ঢালাই করা হয়। বাঁশ দিয়ে শাটারিং করার সময় স্থানীয়রা ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
বাসাইল উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাত্তাউর রহমান বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে রাতে ঢালাইয়ের কাজ করেছে। ফুটপাতের স্ল্যাব নির্মাণের ক্ষেত্রে নিয়ম অনুযায়ী নির্দিষ্ট স্থানে ঢালাই করে পরে ফুটপাতের জায়গায় স্ল্যাব বসানোর কথা। কিন্তু এখানে সরাসরি বাঁশ ও কাঠ দিয়ে শাটারিং করে সামান্য রড দিয়ে ঢালাই করা হয়েছে। এটি নিয়ম অনুযায়ী হয়নি এবং অনিয়ম হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, যেসব জায়গায় নিম্নমানের কাজ হয়েছে, সেগুলো ভেঙে ফেলা হচ্ছে। দ্রুত সেগুলো পুনরায় নির্মাণ করা হবে। এ ঘটনায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন বলেন, বিষয়টি জানার পর সরেজমিনে সেতুটি পরিদর্শন করা হয়েছে। দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাধ্যমে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

