এম,এ রাশেদ,স্টাফ রিপোর্টার, “অল্প সময়ে, স্বল্প খরচে, সঠিক বিচার পেতে চলো যাই গ্রাম আদালতে” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বগুড়ার নন্দীগ্রামে গ্রাম আদালত সম্পর্কে ব্যাপক জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে স্থানীয় সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহের অংশগ্রহণে সমন্বিত পরিকল্পনা প্রণয়ন বিষয়ক এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (১০ জুন ২০২৬) সকাল সাড়ে ১০টায় উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষ ভদ্রাবতীতে আয়োজিত এ কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শারমিন আরা। তিনি বলেন, গ্রাম আদালত স্থানীয় পর্যায়ে বিরোধ নিষ্পত্তির একটি কার্যকর ও জনবান্ধব ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষ দ্রুত, সহজ ও কম খরচে ন্যায়বিচার পেতে পারেন। তাই গ্রাম আদালতের কার্যক্রম সম্পর্কে জনগণকে আরও সচেতন করতে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসহ সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
কর্মশালায় সেশন পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) রোহান সরকার এবং নন্দীগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি)-এর প্রতিনিধি এসআই সাম মোহাম্মদ। গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ প্রকল্পের উপজেলা সমন্বয়কারী ইয়াছিন আলী গ্রাম আদালতের কার্যক্রম, গুরুত্ব ও সুবিধাসমূহ তুলে ধরে বিস্তারিত আলোচনা করেন এবং অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সুলতানা আক্তার বানু, নন্দীগ্রাম উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি ফজলুর রহমান, নন্দীগ্রাম মডেল প্রেসক্লাবের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক আব্দুর রউফ উজ্জ্বল, তথ্যসেবা কর্মকর্তা শারমিন আক্তার, ব্র্যাক নন্দীগ্রাম শাখার ব্যবস্থাপক আনিনুল ইসলাম, প্রশিকা মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্রের এলাকা ব্যবস্থাপক মনিরুল ইসলাম, আশা নন্দীগ্রাম শাখার ব্যবস্থাপক শামসুল হক, এসকেএস ফাউন্ডেশনের শাখা ব্যবস্থাপক জুয়েল বাবু, উদ্দীপন নন্দীগ্রাম শাখার ব্যবস্থাপক এরশাদ আলী, গাক নন্দীগ্রাম শাখার অফিস সহকারী পারুল বানু, অফিস সহকারী সেলিম উদ্দিনসহ বিভিন্ন এনজিও প্রতিনিধি ও সুধীজন।
কর্মশালায় বক্তারা গ্রাম আদালতের সেবা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা, উঠান বৈঠক, গণসচেতনতামূলক সভা এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সম্পৃক্ততা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
উল্লেখ্য, গ্রাম আদালত আইন-২০০৬ অনুযায়ী ইউনিয়ন পরিষদে গ্রাম আদালত গঠিত হয়। স্থানীয় পর্যায়ে ক্ষুদ্র ফৌজদারি ও দেওয়ানি বিরোধ দ্রুত ও সহজ পদ্ধতিতে নিষ্পত্তির জন্য এ আদালত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। গ্রাম আদালত সর্বোচ্চ ৩ লাখ টাকা মূল্যমানের নির্দিষ্ট ধরনের ফৌজদারি ও দেওয়ানি বিরোধ নিষ্পত্তির এখতিয়ার রাখে, যা গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জন্য ন্যায়বিচার প্রাপ্তির একটি সহজ ও কার্যকর মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত।

