https://pranershohorbd.net/wp-content/uploads/2022/09/logo-ps-1.png
ঢাকাWednesday , 22 July 2026
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন-বিচার
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আবহাওয়া বার্তা
  6. কক্সবাজার
  7. কিশোরগঞ্জ
  8. কুড়িগ্রাম
  9. কুমিল্লা
  10. কৃষি বার্তা
  11. খাগড়াছড়ি
  12. খুলনা
  13. খেলাধুলা
  14. খোলা কলাম
  15. গনমাধ্যাম
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বগুড়ার শেরপুরে বাঙালি নদীর ভয়াল ভাঙন: নির্ঘুম রাত কাটছে নদীপাড়ের মানুষের

admin
July 22, 2026 6:02 pm
Link Copied!

স্টাফ রিপোর্টার: বগুড়ার শেরপুর উপজেলার চক খানপুর গ্রামের হাওলাদারপাড়ায় বাঙালি নদীর ভয়াবহ ভাঙনে চরম আতঙ্কে দিন কাটছে নদীপাড়ের মানুষের। একসময় প্রায় ১৩০টি পরিবারের বসবাসে মুখর এই জনপদে এখন টিকে আছে মাত্র প্রায় ৬০টি পরিবার। বছরের পর বছর নদীভাঙনে আবাদি জমি, ফসলি ক্ষেত ও বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ায় অনেক পরিবার এলাকা ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, চলতি বর্ষায় ভাঙনের তীব্রতা আরও বেড়েছে। শুধু এ বছরেই প্রায় ২০ থেকে ২৫ ফুট এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। প্রতিদিন নতুন নতুন স্থানে ভাঙন দেখা দেওয়ায় নদীর তীরে বসবাসকারী পরিবারগুলো চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে অল্প সময়ের মধ্যেই অবশিষ্ট বসতভিটাও নদীগর্ভে হারিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
ভুক্তভোগী মংলা চন্দ্র হাওলদার (৫৫) বলেন, “চোখের সামনে নদী সব গিলে খাচ্ছে। সারাজীবনের কষ্টে গড়া ঘরটা এখন ভাঙনের মুখে। ঘুম থেকে উঠে যদি দেখি ঘরটাই নেই— সেই ভয়েই দিন কাটছে।”

 

 

উজ্জ্বল সরকার (৩৫) বলেন, “নদী থেকে যেভাবে বালু তোলা হয়েছে, তাতে ভাঙন আরও ভয়ংকর হয়েছে। আমরা বারবার অভিযোগ করলেও কেউ ব্যবস্থা নেয়নি।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, অপরিকল্পিতভাবে নদী থেকে বালু উত্তোলনের কারণেও ভাঙনের তীব্রতা বেড়েছে। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে দাবি তাদের।
শ্রীমতী সবরী রানী (৪৫) বলেন, “পাশের বাড়িগুলো একে একে নদীতে চলে যেতে দেখেছি। এখন নিজের বাড়ির পালা। সন্তানদের নিয়ে কোথায় যাব, সেটাই সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা।”

 

প্রভাতী রানী (৮০) বলেন, “এই বয়সে আর কোথায় যাব? স্বামীর রেখে যাওয়া এই ভিটাটুকুই শেষ সম্বল। এটাও নদী নিয়ে গেলে রাস্তায় দাঁড়ানো ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না।”
এ বিষয়ে শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জানান, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা দ্রুত পরিদর্শন করে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় স্থানে জিও ব্যাগ ফেলা ও অন্যান্য প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. হুমায়ুন কবির বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি জরুরি কাজ বাস্তবায়নের জন্য আসন্ন বাজেটে বরাদ্দও চাওয়া হয়েছে। অনুমোদন মিললেই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

তবে স্থানীয়দের দাবি, প্রতি বছরই নদীভাঙনের সময় নানা আশ্বাস মিললেও স্থায়ী কোনো নদীশাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন হয় না। ফলে বর্ষা এলেই নতুন করে ভাঙনের আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাতে হয় তাদের। দ্রুত দীর্ঘমেয়াদি নদীশাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন না হলে হাওলাদারপাড়ার অবশিষ্ট অংশও অচিরেই মানচিত্র থেকে হারিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।

আমাদের জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল"প্রাণের শহর বিডি'র জন্য সারাদেশব্যাপী সাংবাদিক নিয়োগ চলছে। আগ্রহীরা অতিসত্বর যোগাযোগ করুন অথবা সিভি পাঠিয়ে দিন। সিভি পাঠানোর ইমেইল Mintuislam59@gmail.com, আমাদের দৈনিক প্রাণের শহর বিডি অনলাইনে সারাদেশের পাঠকরা নিউজ পাঠাতে পারেন" নিউজ পাঠানোর ইমেইল pranershohorbd@gmail.com এ। আমাদের খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো। বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।