এম,এ রাশেদ,স্টাফ রিপোর্টারঃ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য অধ্যক্ষ শাহাবুদ্দিন বলেছেন, সংগঠনের প্রতিটি দায়িত্বকে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। একজন ইসলামী আন্দোলনের নেতার প্রধান পরিচয় হবে তাকওয়া, সততা, আমানতদারিতা ও আত্মত্যাগ। চরিত্রবান নেতৃত্বই সমাজে মানুষের আস্থা ও গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করতে সক্ষম।
শনিবার (২৫ জুলাই) বিকেলে বগুড়া শহরের কলোনী এলাকায় শাহওয়ালী উল্লাহ মিলনায়তনে জেলা জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত দিনব্যাপী ইউনিয়ন দায়িত্বশীল সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অধ্যক্ষ শাহাবুদ্দিন বলেন, ব্যক্তিজীবন, পারিবারিক জীবন ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড—সবক্ষেত্রেই ইসলামী আদর্শের বাস্তব প্রতিফলন ঘটাতে হবে। একটি আদর্শ সমাজ গঠনে কেবল রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডই যথেষ্ট নয়; মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে দাঁড়ানো, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং মানবিক দায়িত্ব পালনের মাধ্যমেই সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব। তিনি দায়িত্বশীলদের সাংগঠনিক শৃঙ্খলা, দক্ষতা ও জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সম্মেলনে জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল হক সরকারের সভাপতিত্বে এবং জেলা সেক্রেটারি মাওলানা মানছুরুর রহমানের পরিচালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও বগুড়া অঞ্চলের সহকারী পরিচালক অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও বগুড়া মহানগর আমীর অধ্যক্ষ আবিদুর রহমান সোহেল, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি গোলাম রব্বানী, কেন্দ্রীয় শিক্ষা বিভাগের সদস্য অধ্যক্ষ ড. আব্দুল আজিজ এবং বগুড়া মহানগর সেক্রেটারি অধ্যাপক আ স ম আব্দুল মালেক।
এছাড়া বক্তব্য দেন অধ্যাপক মুন্সী আব্দুল বাছেদ, মাওলানা আব্দুল হাকিম সরকার, মিজানুর রহমান, নুর মোহাম্মাদ আবু তাহের এবং বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির বগুড়া জেলা পশ্চিম শাখার সভাপতি সাদ্দাম হোসেনসহ অন্যান্য নেতারা।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে গোলাম রব্বানী বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম লক্ষ্য ছিল সাংবিধানিক সংস্কারের মাধ্যমে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলা।
তবে বর্তমান সরকার সেই প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তার দাবি, সরকার ক্ষমতায় যাওয়ার পর ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থার ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে। মুখে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করা হলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
সম্মেলনে জেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন। বক্তারা সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করা, নৈতিক নেতৃত্ব বিকাশ, জনসেবামূলক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণ এবং আদর্শিক চেতনা সমুন্নত রেখে সমাজে ইতিবাচক ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।

