দৈনিক প্রাণের শহর বিডি ডেস্ক:
বগুড়ায় দিন দিন বাড়ছে সাইবার অপরাধ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ইন্টারনেট ব্যবহার করে নারী, শিক্ষার্থী, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সরকারি কর্মকর্তা, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ হয়রানি ও সাইবার বুলিংয়ের শিকার হচ্ছেন। একই সঙ্গে প্রবাসীদের স্ত্রীদেরও বিভিন্নভাবে হয়রানি করার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সাইবার অপরাধের ঘটনায় প্রায়ই বগুড়া গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সাইবার ইউনিটে অভিযোগ জমা পড়ছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তের পাশাপাশি অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারও করা হচ্ছে। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) বগুড়াতেও সাইবার অপরাধসংক্রান্ত কয়েকটি মামলা তদন্তাধীন রয়েছে।
সিআইডি বগুড়ার বিশেষ পুলিশ সুপার মো. মোতাহার হোসেন বলেন, ইন্টারনেটে ব্যক্তিগত ছবি ছড়িয়ে দেওয়া, ফেসবুক আইডি হ্যাক করে হুমকি দিয়ে অর্থ আদায়, ছবি বা ভিডিও সম্পাদনা করে তা ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখানো, পর্নোগ্রাফি ছবি ব্যবহার করে আপত্তিকর কনটেন্ট বা ভুয়া আইডি তৈরি, ব্যক্তিগত ফোন নম্বর ছড়িয়ে দেওয়া, হয়রানিমূলক খুদে বার্তা, ই-মেইল কিংবা ক্ষতিকর লিংক পাঠানোসহ বিভিন্ন উপায়ে মানুষকে হয়রানি করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, সাইবার অপরাধের বিষয়ে সিআইডি কয়েকটি মামলা তদন্ত করছে। সাইবার ট্রাইব্যুনালের নির্দেশে দায়ের হওয়া মামলাগুলোও সিআইডি তদন্ত করে থাকে। তদন্ত শেষে অভিযোগপত্র দেওয়া হলে সংশ্লিষ্ট মামলার বিচার সাইবার ট্রাইব্যুনালে অনুষ্ঠিত হয়।
বগুড়া ডিবির সাইবার ইউনিটের ইনচার্জ পরিদর্শক শামীম বলেন, এক শ্রেণির কিশোর, তরুণ ও যুবক এ ধরনের অপরাধে বেশি জড়িত হচ্ছে। প্রায়ই ডিবির সাইবার ইউনিটে সাইবার অপরাধসংক্রান্ত অভিযোগ জমা পড়ছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে কিশোর, তরুণ ও যুবকের সংখ্যা বেশি। অন্যদিকে সাইবার হয়রানির শিকার ব্যক্তিদের মধ্যে নারী শিক্ষার্থীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য। গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে এবং মামলাগুলোর বিচার রাজশাহী সাইবার ট্রাইব্যুনালে হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বগুড়ায় সাইবার অপরাধসংক্রান্ত অভিযোগ ও মামলা বাড়তে থাকায় স্থানীয় পর্যায়ে এ ধরনের অপরাধের দ্রুত বিচার ও কার্যকর প্রতিকার নিশ্চিত করতে একটি সাইবার ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। এতে ভুক্তভোগীদের মামলা পরিচালনা ও বিচারপ্রক্রিয়ায় সময় ও ভোগান্তি কমতে পারে বলে মনে করছেন তারা।

