দৈনিক প্রাণের শহর বিডি ডেস্ক,:
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব, অপতথ্য, মানহানিকর প্রচারণা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি বিভ্রান্তিকর কনটেন্টের বিস্তার রোধে সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সংশোধিত আইনে ক্ষতিকর কনটেন্ট দ্রুত অপসারণ, আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মগুলোর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং নতুন ধরনের সাইবার অপরাধের বিরুদ্ধে শাস্তির বিধান যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে এ বিষয়ে সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানান, বর্তমান আইনের সীমাবদ্ধতার কারণে অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া অনেক ধরনের ভুয়া, বিভ্রান্তিকর ও মানহানিকর কনটেন্টের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। এ কারণে সময়োপযোগী সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, সংশোধিত আইনে ‘সাইবার স্পেস’-এর সংজ্ঞা আরও বিস্তৃত করা হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্ম এবং অন্যান্য অনলাইনভিত্তিক ডিজিটাল মাধ্যমকে নতুনভাবে আইনের আওতায় আনার প্রস্তাব রয়েছে।
এছাড়া গুজব, অপতথ্য, বিভ্রান্তিকর তথ্য ও মানহানিকর কনটেন্টের পৃথক সংজ্ঞা নির্ধারণ করা হবে। এসব কনটেন্ট তৈরি, প্রচার বা ছড়িয়ে দেওয়ার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে নতুন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ও বিবেচনায় রয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভুয়া ছবি, ভিডিও ও অডিও তৈরির প্রবণতা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে, যা ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্রীয় স্বার্থের জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর সঙ্গে আরও কার্যকর সমন্বয় গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
সরকারের অন্যতম লক্ষ্য হলো about.meta.com�-সহ বড় প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মগুলোকে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে ক্ষতিকর বা রিপোর্টকৃত কনটেন্ট অপসারণে বাধ্য করার জন্য আইনি ভিত্তি তৈরি করা। সংশ্লিষ্টদের মতে, বর্তমানে এ ধরনের অনুরোধ পাঠানো হলেও অনেক ক্ষেত্রে দ্রুত সাড়া পাওয়া যায় না।
তবে আইন সংশোধনের উদ্যোগ নিয়ে উদ্বেগও প্রকাশ করেছেন প্রযুক্তি ও সাইবার নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, অনলাইন অপরাধ ও অপপ্রচার নিয়ন্ত্রণ জরুরি হলেও আইনটি যেন রাজনৈতিক মতপ্রকাশ দমন বা ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘনের হাতিয়ার না হয়ে ওঠে, সে বিষয়ে স্পষ্ট সুরক্ষা ব্যবস্থা থাকতে হবে।
বিশেষজ্ঞদের অভিমত, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকার সংরক্ষণও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাই নতুন আইনের খসড়া প্রণয়নের সময় এই দুই বিষয়ের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করাই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

