দৈনিক প্রাণের শহর বিডি ডেস্ক:
ঢাকা, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬: গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে সরকার। এর অংশ হিসেবে দেশের ভেতরে প্রায় ১৫০টি নতুন গ্যাসকূপ খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রথম পর্যায়ের কাজ সফলভাবে শেষ হলে দ্বিতীয় পর্যায়ে আরও ১৫০টি কূপ খননের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে ‘বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ পথরেখা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এসব তথ্য জানান।
সভায় দেশের শীর্ষস্থানীয় ২১টি ব্যবসায়ী সংগঠন ও অ্যাপেক্স বডির নেতৃবৃন্দ এবং গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
মাহ্দী আমিন বলেন, দেশে দুটি ভাসমান তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনাল বা এফএসআরইউ রয়েছে। এর একটি দীর্ঘদিন কারিগরি ত্রুটির কারণে অচল ছিল। সরকার সেটি মেরামতের পাশাপাশি জ্বালানি নিরাপত্তা আরও সুসংহত করতে কাজ করছে।
তিনি বলেন, বর্তমানে সচল দুটি এফএসআরইউয়ের পাশাপাশি ২০২৮ সালের মধ্যে সম্ভব হলে তৃতীয় একটি এফএসআরইউ যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদে এ সংখ্যা পাঁচটিতে উন্নীত করার পরিকল্পনাও রয়েছে। এর মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহে স্থিতিশীলতা আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র আরও বলেন, মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেশের অভ্যন্তরে প্রায় ১৫০টি নতুন গ্যাসকূপ খননের কাজ হচ্ছে। প্রথম পর্যায়ের কাজ সফলভাবে সম্পন্ন হলে দ্বিতীয় পর্যায়ে আরও ১৫০টি কূপ খননের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
শুধু ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের ওপর নির্ভরশীল না থেকে দীর্ঘমেয়াদে স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের বিষয়েও সরকার কাজ করছে বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে জাতীয় গ্যাস পাইপলাইন নেটওয়ার্ক আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিদ্যুৎ খাতের পরিকল্পনা তুলে ধরে মাহ্দী আমিন বলেন, তেল, গ্যাস ও কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের মধ্যে টেকসই সমন্বয় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এর পাশাপাশি ভবিষ্যৎ জ্বালানি ব্যবস্থায় সৌরবিদ্যুৎ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতকে বহুমুখী করার পাশাপাশি সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর মাধ্যমে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার ভিত্তি আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা রয়েছে।
ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় প্রসঙ্গে মাহ্দী আমিন বলেন, বৈঠকে উপস্থিত ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা তাঁদের অভিজ্ঞতা এবং বাস্তব পরিস্থিতির কথা খোলামেলাভাবে তুলে ধরেছেন। শিল্প ও ব্যবসা খাতের উদ্যোক্তারা তাঁদের মেধা, শ্রম ও বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে ভূমিকা রাখছেন।
তিনি বলেন, সরকার বেসরকারি খাতকে নীতিগত সহায়তা দেবে এবং সরকারি ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিকে আরও এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।
দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বর্তমান সংকট প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র বলেন, দীর্ঘ সময়ের বিভিন্ন সমস্যা ও সংকটের কারণে বর্তমানে অনেক চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। এসব সংকট রাতারাতি সমাধান করা সম্ভব নয়। তবে সরকার এসব সমস্যা সমাধানে পরিকল্পিতভাবে কাজ করছে।
তিনি বলেন, প্রতিটি সংকটকে সমস্যা সমাধানের নতুন সুযোগ হিসেবে দেখছে সরকার। ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ ও তাঁদের সংগঠনগুলোর সঙ্গে সরকারের সংলাপের ধারা অব্যাহত থাকবে এবং নিয়মিত মতবিনিময়ের মাধ্যমে বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত ও সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সভায় বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তারসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া পেট্রোবাংলা ও বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এবং গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বরা সভায় অংশ নেন।
ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর মধ্যে এফবিসিসিআই, ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স-বাংলাদেশ, বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ, মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি, ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি, চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি, বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ, বাংলাদেশ অ্যাগ্রো-প্রসেসর্স অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ স্টিল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ প্লাস্টিক গুডস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ সিরামিক ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস, বাংলাদেশ ইনসিওরেন্স অ্যাসোসিয়েশন ও রিহ্যাবসহ বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সভা শেষে মাহ্দী আমিন বলেন, সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সংকট মোকাবিলা করে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করা এবং অর্থনৈতিকভাবে স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য।

