ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি:
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তিতাস-২৮ নম্বর কূপ থেকে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক আরও ১২ দশমিক ৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কূপটির গ্যাস উৎপাদন কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, এমপি।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী বলেন, গ্যাসের সংকটের সময়ে তিতাস-২৮ কূপ থেকে জাতীয় গ্রিডে নতুন করে গ্যাস যুক্ত হওয়ায় শিল্প, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য খাতে সরবরাহ বাড়ানো সম্ভব হবে। এর ফলে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতিতে কিছুটা স্বস্তি ফিরবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, জ্বালানি খাতে স্বনির্ভরতা অর্জনের লক্ষ্যে ২০৩০ সালের মধ্যে আরও ১৫০টি কূপ খননের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। দেশীয় কোম্পানিগুলোর সক্ষমতা বাড়িয়ে গ্যাসের আমদানি-নির্ভরতা কমানোর জন্য সরকার কাজ করছে।
বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেড (বিজিএফসিএল) তিতাস গ্যাস ফিল্ডের তত্ত্বাবধানের দায়িত্বে রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা)-এর আওতাধীন রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান। বর্তমানে বিজিএফসিএলের আওতায় তিতাস, হবিগঞ্জ, বাখরাবাদ, নরসিংদী, মেঘনা ও কামতা—এই ছয়টি গ্যাস ফিল্ড রয়েছে।
বিজিএফসিএল সূত্রে জানানো হয়, প্রতিষ্ঠানটি দেশের মোট দেশীয় গ্যাস উৎপাদনের প্রায় ৩০ শতাংশ এবং দেশের মোট গ্যাস সরবরাহের প্রায় ১৮ শতাংশ উৎপাদন করে। গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, সরকারের ২০৩০ সালের মধ্যে ১৫০টি কূপ খননের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিজিএফসিএলের পাঁচটি প্রকল্প চলমান রয়েছে। এসব প্রকল্পের আওতায় ছয়টি নতুন কূপ খনন এবং আটটি বন্ধ কূপ ওয়ার্কওভারের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ১০৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস যুক্ত করার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।
এ ছাড়া আরও নয়টি নতুন কূপ খনন এবং ১২টি বিদ্যমান কূপ ওয়ার্কওভারের মাধ্যমে দৈনিক প্রায় ১২৬ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার সম্ভাবনা রয়েছে। সরকারের মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবে ২০৩৫ সালের মধ্যে ১৯টি কূপ থেকে দৈনিক প্রায় ২৩৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার আশা করা হচ্ছে।
গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বাড়াতে বিজিএফসিএলের আওতাধীন বিভিন্ন এলাকায় ভূকম্পন জরিপও পরিচালনা করা হচ্ছে। হবিগঞ্জ গ্যাস ফিল্ড ও সংলগ্ন এলাকায় ৮৭৫ বর্গকিলোমিটার এবং বাখরাবাদ, নরসিংদী ও মেঘনা গ্যাস ফিল্ড এলাকায় ৫৭৫ বর্গকিলোমিটারসহ মোট ১ হাজার ৪৫০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় ত্রিমাত্রিক (৩-ডি) ভূকম্পন জরিপের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
এ ছাড়া তিতাস গ্যাস ফিল্ডের উত্তর-পশ্চিম ও নরসিংদী গ্যাস ফিল্ডের উত্তর-পূর্ব এলাকায় ৬৩২ বর্গকিলোমিটার এলাকায় দ্বিমাত্রিক (২-ডি) ও ত্রিমাত্রিক (৩-ডি) ভূকম্পন জরিপ পরিচালনা করা হচ্ছে।
‘তিতাস ও কামতা ফিল্ডে ৪টি মূল্যায়ন-কাম-উন্নয়ন কূপ খনন’ প্রকল্পের আওতায় তিতাস-২৮ নম্বর কূপ খনন করা হয়। কূপ খননের জন্য চীনের সিএনপিসি চুয়ানকিং ড্রিলিং ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেডের (সিসিডিসি) সঙ্গে ২০২৫ সালের ১০ এপ্রিল চুক্তি হয়।
চুক্তির আওতায় তিতাস-২৮ নম্বর কূপের খননকাজ শুরু হয় ২০২৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর। ২০২৬ সালের ১৯ জুন কূপটি ৩ হাজার ৬০১ মিটার (এমডি) বা ৩ হাজার ৪৭১ মিটার (টিভিডি) গভীরতায় খনন সম্পন্ন করা হয়।
কূপটি থেকে দৈনিক ১২ থেকে ১৩ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। তিতাস-২৮ নম্বর কূপটি সম্পন্ন করতে প্রায় ২০০ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব মো. জিয়াউল হকসহ পেট্রোবাংলা ও বিজিএফসিএলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠান শেষে প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত তিতাস-২৯ ও তিতাস-৩১ নম্বর কূপের চলমান খনন কার্যক্রম পরিদর্শন করেন।

