এম,এ রাশেদ,স্টাফ রিপোর্টারঃ
বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (বিপিডিবি) ঠিকাদার কল্যাণ সমিতি ও মিনি ঠিকাদার কল্যাণ সমিতির উদ্যোগে সোমবার (২০ জুলাই ২০২৬) এক যৌথ সমন্বয় সভা বগুড়ার সেফওয়ে মোটেল অ্যান্ড হোটেলে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় রাজশাহী, রংপুর ও বগুড়া জোনের বিভিন্ন পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বিপুলসংখ্যক ঠিকাদার ও সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।
সভা পরিচালনা করেন মো. রবিউল করিম ও মো. ওয়াহেদুজ্জামান খান (লোটন)। এতে সভাপতিত্ব করেন আলহাজ মো. সেকেন্দার আলী। সভাপতির স্বাগত বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সভার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়।
সভায় বক্তব্য দেন বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড ঠিকাদার কল্যাণ সমিতির সভাপতি মো. রেজাউল করিম, সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল আওয়াল, যুগ্ম সম্পাদক মো. মাসুদুর রহমান এবং মিনি ঠিকাদার কল্যাণ সমিতির সভাপতি শেখ সাহবাজ আলী, সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. আতিকুর রহমান, সহ-সভাপতি মো. আমিনুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক মো. সাব্বির আহমেদসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা বলেন, ২০১৭ সালের পর থেকে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের বিভিন্ন প্রকল্পের টেন্ডার ও কার্যাদেশের দর আর বৃদ্ধি করা হয়নি। অথচ গত নয় বছরে নির্মাণসামগ্রী, শ্রমিকের মজুরি, পরিবহন ব্যয়, জ্বালানি, যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ বহুগুণ বেড়েছে। বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে পুরোনো দর অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। এতে ঠিকাদাররা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এবং অনেকেই কাজ চালিয়ে যেতে হিমশিম খাচ্ছেন।
নেতৃবৃন্দ আরও অভিযোগ করেন, বিভিন্ন পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কিছু কর্মকর্তা ঠিকাদারদের সঙ্গে অসহযোগিতামূলক ও অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন, যা একটি সুষ্ঠু কর্মপরিবেশের পরিপন্থী। তারা বলেন, দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে ঠিকাদারদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। নিয়মিত আয়কর ও ভ্যাট প্রদানকারী হিসেবে ঠিকাদারদের যথাযথ সম্মান ও সহযোগিতা পাওয়া উচিত।
সভায় বক্তারা বলেন, ন্যায্য দাবি আদায়ে সকল ঠিকাদারকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। একজন ঠিকাদারের সমস্যা যেন সকলের সমস্যা হিসেবে বিবেচিত হয় -এই মনোভাব নিয়ে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
নেতৃবৃন্দ জানান, দর বৃদ্ধির বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে একাধিকবার আলোচনা করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। অনেক কর্মকর্তা বিষয়টি সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল বলে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে কিছু কর্মকর্তা টেন্ডারে ঠিকাদারদের কম দর (লেস রেট) দিয়ে অংশগ্রহণের বিষয়টিও উল্লেখ করেন।
এ বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনা শেষে সভায় উপস্থিত সকল ঠিকাদার সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন যে, টেন্ডার ও কার্যাদেশের বিদ্যমান দর শতভাগ বৃদ্ধি না হওয়া পর্যন্ত তারা নতুন কোনো টেন্ডারে অংশগ্রহণ করবেন না। প্রয়োজনে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন, মানববন্ধন, স্মারকলিপি প্রদান এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে যৌক্তিক দাবি আদায়ে কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে বলেও সভায় ঘোষণা দেওয়া হয়।
সভার শেষে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ আশা প্রকাশ করেন, সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড ঠিকাদারদের যৌক্তিক দাবির প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করবে এবং দ্রুত দর পুনর্নির্ধারণের উদ্যোগ নেবে। অন্যথায় দেশের পল্লী বিদ্যুতায়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে বলেও তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

