এম,এ রাশেদ,স্টাফ রিপোর্টারঃ বগুড়ার গাবতলী উপজেলার নশিপুর ইউনিয়নের বাগবাড়ী গ্রামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্য মোছা. হাওয়া বেগমের চারটি বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। সোমবার (২০ জুলাই ২০২৬) দুপুরে এ মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আগুনে কয়েক দশকের সঞ্চয়, আসবাবপত্র, নগদ অর্থ ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র পুড়ে যাওয়ায় পরিবারটি চরম দুর্ভোগে পড়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত হাওয়া বেগম জানান, আগুনের ভয়াবহতায় মুহূর্তের মধ্যেই চারটি বসতঘর আগুনে গ্রাস হয়ে যায়। প্রাণ বাঁচাতে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত ঘর থেকে বেরিয়ে এলেও ঘরের ভেতরে থাকা আসবাবপত্র, নগদ অর্থ, স্বর্ণালঙ্কার, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, কাপড়চোপড় এবং দৈনন্দিন ব্যবহারের মালামাল রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। এতে আনুমানিক ৭ থেকে ৮ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ধারণা, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়।
প্রবল তাপ ও দাহ্য উপকরণ থাকায় আগুন দ্রুত চারটি বসতঘরে ছড়িয়ে পড়ে। পরে স্থানীয়রা প্রাথমিকভাবে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালালেও তা সম্ভব হয়নি।
খবর পেয়ে গাবতলী ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক তদন্তেও বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে সর্বস্ব হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপনের আশঙ্কায় পড়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটি। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রতিবেশীরা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
ক্ষতিগ্রস্ত হাওয়া বেগম দ্রুত সরকারি সহায়তা, পুনর্বাসন এবং মানবিক সহযোগিতার দাবি জানিয়ে বলেন, “আমার সবকিছু আগুনে পুড়ে গেছে। এখন পরিবার নিয়ে নতুন করে বেঁচে থাকার জন্য সরকারের সহযোগিতা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।”
স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ নিরূপণে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। সরকারি সহায়তার বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

