এম,এ রাশেদ,স্টাফ রিপোর্টারঃ
বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গঠনে জুলাই আন্দোলনের চেতনা ধারণ করে সব গণতান্ত্রিক শক্তিকে বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতারা। তারা বলেছেন, জুলাইয়ে যে আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন জাগ্রত হয়েছিল, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে রাজনৈতিক সংকীর্ণতা পরিহার করে জাতীয় ঐক্যের ভিত্তিতে এগিয়ে আসতে হবে।
সোমবার বিকেলে বগুড়া শহরের নবাববাড়ীস্থ টিএমএসএস অডিটোরিয়ামে বগুড়া মহানগর ও জেলা জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে আয়োজিত “জুলাই অভ্যুত্থান : সাম্প্রতিক ভাবনা” শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন বগুড়া মহানগর জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ আবিদুর রহমান সোহেল। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মাহফুজুর রহমান আখন্দ। প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য অধ্যক্ষ শাহাবুদ্দিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও বগুড়া অঞ্চলের সহকারী পরিচালক অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক সৈয়দ আব্দুল আজিজ এবং বগুড়া জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল হক সরকার।
বক্তারা বলেন, চব্বিশের জুলাইয়ে ফ্যাসিবাদী দমননীতির বিরুদ্ধে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক, শ্রমজীবীসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এক কাতারে দাঁড়িয়ে যে গণআন্দোলনের জন্ম দিয়েছিলেন, তা কেবল কোটা সংস্কারের দাবিতে সীমাবদ্ধ ছিল না। বরং এটি দীর্ঘদিনের বৈষম্য, অবিচার, দমন-পীড়ন ও রাষ্ট্রীয় অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে একটি গণজাগরণে রূপ নিয়েছিল। তরুণদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা সেই আন্দোলন জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা, আইনের শাসন, নাগরিক মর্যাদা এবং ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষাকে সামনে নিয়ে এসেছিল।
তারা আরও বলেন, দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে অসংখ্য শিক্ষার্থী শুধুমাত্র বিবেকের তাড়নায় রাজপথে নেমেছিলেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, ছাত্রসংগঠন ও সাধারণ মানুষ যুক্ত হয়ে আন্দোলনকে আরও বেগবান করেন। আন্দোলনের পথে বহু মানুষ প্রাণ দিয়েছেন, অনেকে আহত ও পঙ্গুত্ববরণ করেছেন, আবার কেউ কেউ এখনও চিকিৎসাধীন। তাদের এই আত্মত্যাগ জাতির ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে।
বক্তারা অভিযোগ করেন, জুলাই আন্দোলনের পরও বহু প্রত্যাশা অপূর্ণ রয়ে গেছে। এখনো গণহত্যার বিচার সম্পন্ন হয়নি, সমাজ থেকে সহিংসতা, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের সংস্কৃতি পুরোপুরি দূর হয়নি। একই সঙ্গে আন্দোলনের বিভিন্ন অংশীজনের মধ্যে কৃতিত্বের প্রশ্নে বিভক্তি তৈরি হওয়ায় জনগণের প্রত্যাশিত পরিবর্তনের পথ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলেও তারা মন্তব্য করেন।
সেমিনার থেকে জুলাই আন্দোলনের সব শক্তিকে জাতীয় স্বার্থে পারস্পরিক বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি শহীদদের আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণ এবং বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠনে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতিও আহ্বান জানানো হয়।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বগুড়া জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা মানসুরুর রহমান এবং মহানগর সেক্রেটারি অধ্যাপক আ.স.ম. আব্দুল মালেক।

