এম,এ রাশেদ,স্টাফ রিপোর্টারঃ
শিক্ষকের প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার এক ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করল বগুড়ার বাদুরতলা আদর্শ স্কুলের শিক্ষার্থীরা। দীর্ঘ ৩৫ বছরের শিক্ষকতা জীবন শেষে প্রিয় শিক্ষক আব্দুল মান্নানকে ঘোড়ার গাড়িতে চড়িয়ে রাজকীয় আয়োজনে বিদায় জানিয়েছে তারা। ব্যতিক্রমী এই বিদায় আয়োজন ঘিরে বিদ্যালয়জুড়ে সৃষ্টি হয় আবেগঘন পরিবেশ। শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অতিথিদের অনেকেই এ সময় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বগুড়া মহানগরীর বাদুরতলা আদর্শ স্কুলের সহকারী শিক্ষক আব্দুল মান্নানের অবসর উপলক্ষে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম। প্রধান অতিথি ছিলেন বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি অধ্যাপক আ স ম আব্দুল মালেক।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তাপসী রাবেয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জহুরুল ইসলাম স্বর্ণকার, সহকারী প্রধান শিক্ষক বেলাল হোসেন ও সহকারী শিক্ষক মোজাফফর হোসেন। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন ফুটবল রেফারীজ অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন রনজু এবং কোষাধ্যক্ষ জুয়েল শেখসহ বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
দীর্ঘ ৩৫ বছরের শিক্ষকতা জীবনে আব্দুল মান্নান শুধু পাঠদানেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না, শিক্ষা ও ক্রীড়াঙ্গনেও রেখেছেন গুরুত্বপূর্ণ অবদান। তিনি শারীরিক শিক্ষাবিদ সমিতির সাধারণ সম্পাদক এবং জেলা ফুটবল রেফারীজ অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচিত সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
বিদায়ী বক্তব্যে আব্দুল মান্নান আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, দীর্ঘদিন এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করার সুবাদে শিক্ষার্থীরা তাঁর কাছে নিজের সন্তানের চেয়েও বেশি আপন হয়ে উঠেছে। হয়তো আগামীকাল থেকে শ্রেণিকক্ষে তাঁর কড়া শাসন থাকবে না, পড়া না পারলে বকুনিও দিতে হবে না। কিন্তু শিক্ষার্থীদের প্রতি তাঁর বুকভরা ভালোবাসা ও দোয়া আজীবন অটুট থাকবে।
তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে আরও বলেন, জীবনে চরিত্র ও নৈতিকতাকে সবচেয়ে বড় সম্পদ হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। লক্ষ্য স্থির রেখে নিয়মিত পড়াশোনা করতে হবে এবং দেশ ও সমাজের কল্যাণে নিজেদের নিয়োজিত করতে হবে। একই সঙ্গে পিতামাতা ও দেশের মুখ উজ্জ্বল করার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রিয় শিক্ষককে ঘোড়ার গাড়িতে করে বিদায় জানান শিক্ষার্থীরা। তাঁদের এই ব্যতিক্রমী আয়োজন যেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীর দীর্ঘদিনের আত্মিক বন্ধন, ভালোবাসা ও শ্রদ্ধারই এক অনন্য বহিঃপ্রকাশ। কর্মজীবনের ইতি ঘটলেও শিক্ষার্থীদের হৃদয়ে আব্দুল মান্নানের স্মৃতি ও শিক্ষা দীর্ঘদিন অমলিন হয়ে থাকবে।

