এম,এ রাশেদ,স্টাফ রিপোর্টারঃ বগুড়ার ধুনট উপজেলার নিমগাছী ইউনিয়নের বাবুর বাজার এলাকায় প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও লাইসেন্স ছাড়াই ব্রেড, বিস্কুট ও কেক তৈরির একটি কারখানা পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে কারখানাটিতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্যপণ্য উৎপাদন ও সংরক্ষণ করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এতে বিশেষ করে শিশুদের পাশাপাশি সাধারণ ভোক্তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা তাঁদের।
সোমবার (২৪ আগস্ট ২০২৫) দুপুর সাড়ে ২টার দিকে সরেজমিনে বাবুর বাজারের উত্তর পাশে গিয়ে ‘মেসার্স মন ব্রেড অ্যান্ড বিস্কুট ফ্যাক্টোরি’ নামের প্রতিষ্ঠানটিতে বিভিন্ন ধরনের কেক ও বিস্কুট তৈরির কার্যক্রম দেখা যায়। কারখানার উৎপাদনব্যবস্থা, পরিবেশ এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদন নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কারখানাটির মালিক হিসেবে মো. মুজরুল ইসলাম (মনজু) পরিচিত। তিনি বগুড়ার শেরপুর উপজেলার ধুনট মোড় এলাকায় বসবাস করেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, প্রায় তিন মাস ধরে প্রয়োজনীয় বিএসটিআই অনুমোদন বা লাইসেন্স ছাড়াই কারখানাটিতে বিভিন্ন ধরনের ব্রেড, বিস্কুট ও কেক উৎপাদন করে বাজারজাত করা হচ্ছে।
সরেজমিনে কারখানার পরিবেশ নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা। তাঁদের অভিযোগ, খাদ্যপণ্য উৎপাদনের ক্ষেত্রে পরিচ্ছন্নতা, স্বাস্থ্যবিধি ও নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয় নিয়মকানুন যথাযথভাবে মানা হচ্ছে না। উৎপাদনে ব্যবহৃত বিভিন্ন উপকরণ ও রাসায়নিক দ্রব্যের মান, সংরক্ষণ এবং সঠিক মাত্রায় ব্যবহারের বিষয়েও তাঁরা প্রশ্ন তুলেছেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, কারখানায় উৎপাদিত কেক ও বিস্কুট শুধু আশপাশের এলাকায় নয়, বাজারের বিভিন্ন দোকানেও সরবরাহ করা হচ্ছে। ফলে বিষয়টি একটি কারখানার কার্যক্রমের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে বৃহত্তর ভোক্তা জনগোষ্ঠীর জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে শিশুদের খাদ্য হিসেবে এসব পণ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছেন তাঁরা।
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে কারখানাটির কাগজপত্র, উৎপাদন প্রক্রিয়া, ব্যবহৃত কাঁচামাল, খাদ্যপণ্যের মান এবং স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণের বিষয়টি যাচাইয়ের দাবি উঠেছে। তাঁদের দাবি, পরিদর্শনে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
এ বিষয়ে ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আরিফ উল্লাহ নিজামী বলেন, ‘কারখানাটির বিষয়ে একাধিক অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জানানো হবে। দ্রুত পরিদর্শন ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
কারখানার মালিক মো. মুজরুল ইসলাম (মনজু) মুঠোফোনে সংবাদকর্মীদের বলেন, ‘আমার কারখানার কোনো লাইসেন্স নেই। লাইসেন্স করার জন্য চেষ্টা করছি।’
স্থানীয় সূত্র আরও জানায়, নিমগাছী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক নেতা ও বেড়েরবাড়ী গ্রামের রফিকুল ইসলামের জায়গা ভাড়া নিয়ে কারখানাটি পরিচালনা করা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, জনস্বাস্থ্য ও ভোক্তা অধিকার বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কারখানাটি পরিদর্শন করবে এবং অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করবে। একই সঙ্গে অনুমোদন ছাড়া খাদ্যপণ্য উৎপাদন ও বাজারজাত করা হয়ে থাকলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

