এম,এ রাশেদ,স্টাফ রিপোর্টারঃ বগুড়ার ধুনট উপজেলায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে ১৫ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের পর বুধবার (৫ আগস্ট) তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ জানায়, ধুনট থানার জিডি নং-২৭৮ (তারিখ: ৪ আগস্ট ২০২৬)-এর নির্দেশনা অনুযায়ী গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তামিল ও মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে অংশ নেন ধুনট থানার সাব-ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) মো. আব্দুর রাজ্জাক। অভিযানের একপর্যায়ে রাত আনুমানিক ১০টা ৫ মিনিটে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার ১ নম্বর নিমগাছী ইউনিয়নের নান্দিয়ারপাড়া এলাকায় নিমগাছী ইউনিয়ন পরিষদের সামনের পাকা সড়কে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে এক ব্যক্তি পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে তাকে ঘটনাস্থলেই আটক করা হয়। পরে উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে তার দেহ তল্লাশি করে একটি সাদা পলিথিনে রাখা ১৫ পিস ট্যাপেন্টাডল (Tapentadol Tablets 100mg) ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। সরকারি ডিজিটাল ওজন যন্ত্রে পাতাসহ উদ্ধারকৃত ট্যাবলেটের মোট ওজন ৬ গ্রাম পাওয়া যায়।
পুলিশ জানায়, আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ঘটনাস্থলেই জব্দতালিকা প্রস্তুত করা হয়। রাসায়নিক পরীক্ষার জন্য দুই পিস ট্যাবলেট নমুনা হিসেবে সংরক্ষণ করা হয়েছে এবং অবশিষ্ট ১৩ পিস আলামত হিসেবে সিলগালা করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তি উপজেলার নিমগাছী ইউনিয়নের নিমগাছী গ্রামের চাঁন মিয়া সরকারের ছেলে মো. সাজেদুল ইসলাম সাগর (৩৭)। পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি উদ্ধার হওয়া ট্যাপেন্টাডল বিক্রির উদ্দেশ্যে নিজের হেফাজতে রাখার কথা স্বীকার করেছেন। তবে অভিযোগের বিষয়ে আদালতে বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান থাকায় এর চূড়ান্ত সত্যতা বিচার শেষে নির্ধারিত হবে।
এ ঘটনায় ধুনট থানায় এফআইআর নং-৪ (তারিখ: ৫ আগস্ট ২০২৬), জি.আর. নং-১৪১ মূলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) সারণির ২৯(ক) ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের তথ্যমতে, থানার রেকর্ড ও সিডিএমএস (CDMS) যাচাই করে গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে পূর্বে মাদক, অস্ত্র, বিস্ফোরক দ্রব্য এবং দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় একাধিক মামলা বিচারাধীন থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।
গ্রেপ্তারের সময় ধস্তাধস্তিতে অভিযুক্ত ব্যক্তি সামান্য আহত হলে তাকে ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানোর আবেদন করা হয়।
ধুনট থানার সেকেন্ড অফিসার (এসআই) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, “উদ্ধার হওয়া মাদকদ্রব্যের ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া শেষে আসামিকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, মাদকের বিস্তার রোধে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে। মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করার পাশাপাশি আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

