শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি:
বগুড়ার কাহালু উপজেলার এক প্রবাসীর প্রায় ১০ লাখ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও একটি দামি মোবাইল ফোন আত্মসাতের অভিযোগে তাঁর স্ত্রীসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে শেরপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
গত সোমবার (৩ আগস্ট) সকালে প্রবাসী রঞ্জু মিয়ার মা মোছা. সাহিদা বিবি শেরপুর থানায় অভিযোগটি দায়ের করেন।
লিখিত অভিযোগে জানা যায়, পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতার আশায় প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমান কাহালু উপজেলার শান্তা গ্রামের বাসিন্দা রঞ্জু মিয়া। প্রায় তিন বছর আগে মুঠোফোনে পরিচয়ের মাধ্যমে শেরপুর উপজেলার কুসুম্বি ইউনিয়নের বাগড়া হঠাৎপাড়া গ্রামের জাকির হোসেনের মেয়ে খাদিজা আক্তারের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়।
অভিযোগে বলা হয়, বিয়ের পর খাদিজা আক্তার মাঝে মধ্যে স্বামীর বাড়িতে এলেও পরবর্তীতে অন্যদের প্ররোচনায় তাঁর আচরণে পরিবর্তন আসে। প্রবাসে থাকা স্বামীর কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে নানা অজুহাতে প্রায় ১০ লাখ টাকা, মূল্যবান স্বর্ণালঙ্কার ও একটি দামি মোবাইল ফোন নেন তিনি। তবে এসব নেওয়ার পর গত প্রায় এক বছর ধরে শ্বশুরবাড়ির সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন করে দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, পরে টাকা-পয়সা ও মালামাল ফেরত চাইলে অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে বিভিন্ন সময় তাঁদের ভয়ভীতি ও হুমকি দিতে থাকেন। এছাড়া গত ২৮ জুলাই কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে সঙ্গে নিয়ে অভিযুক্তদের কয়েকজন রঞ্জু মিয়ার বাড়িতে গিয়ে খাদিজা আক্তারকে লুকিয়ে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে পরিবারের সদস্যদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করেন বলেও লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রবাসীর মা সাহিদা বিবি বলেন, তাঁর ছেলের কষ্টার্জিত উপার্জন হারিয়ে পরিবারটি আর্থিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। প্রতিনিয়ত হুমকি ও মিথ্যা মামলার আশঙ্কায় তাঁরা আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। বিষয়টি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করে ন্যায়বিচারের আশায় আইনের আশ্রয় নিয়েছেন বলেও জানান তিনি।
ভুক্তভোগী পরিবার ঘটনাটির নিরপেক্ষ তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।
এ বিষয়ে শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মঈনুদ্দীন বলেন, “একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
উল্লেখ্য, এ ঘটনায় উত্থাপিত অভিযোগগুলো অভিযোগকারীর বক্তব্যের ভিত্তিতে উপস্থাপিত হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটিত হলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

