এম.এ রাশেদ,স্টাফ রিপোর্টারঃ
বগুড়ার ধুনটে অভিযান চালিয়ে বার্মিজ চাকুসহ মাসুদ রানা ওরফে উজ্জ্বল (৪৩) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে ধুনট থানায় বিভিন্ন আইনে ১৪টি মামলা বা এফআইআর রয়েছে। রোববার (৪ অক্টোবর) দিবাগত রাতে ধুনট পৌরসভার পশ্চিম ভরণশাহী এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারের সময় মাসুদ রানার কাছ থেকে ইস্পাতের তৈরি একটি ফোল্ডিং বার্মিজ চাকু উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। জব্দ তালিকা অনুযায়ী, চাকুটির খোলা অবস্থায় দৈর্ঘ্য প্রায় ১০ ইঞ্চি এবং ভাঁজ করা অবস্থায় সাড়ে ৫ ইঞ্চি।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তার মাসুদ রানা পশ্চিম ভরণশাহী গ্রামের বাহাদুর আলীর ছেলে। ধুনট থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই তয়ন কুমার মন্ডলের করা এজাহার অনুযায়ী, ৪ অক্টোবর রাতে ধুনট থানার জিডি নম্বর-৩১০-এর সূত্রে পুলিশ সদস্যরা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তামিল, মাদকদ্রব্য উদ্ধার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় এলাকায় টহল দিচ্ছিলেন।
রাত ১১টা ২০ মিনিটের দিকে হুকুম আলী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অবস্থানকালে পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে, পশ্চিম ভরণশাহী এলাকায় মাসুদ রানার বাড়ির সামনে কয়েকজন ব্যক্তি মাদকদ্রব্য কেনাবেচা করছেন। বিষয়টি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে জানানো হলে রাত ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে পুলিশের একটি দল সেখানে অভিযান চালায়।
পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে কয়েকজন ব্যক্তি দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় পুলিশ মাসুদ রানাকে আটক করে। পরে স্থানীয় দুই ব্যক্তির উপস্থিতিতে তাঁর দেহ তল্লাশি করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তল্লাশির সময় মাসুদ রানা নিজেই হাফ প্যান্টের কোমরের পেছনের ডান পাশে গোঁজা অবস্থায় থাকা একটি বার্মিজ চাকু বের করে দেন। পরে রাত ১২টা ৫ মিনিটের দিকে টর্চের আলোতে চাকুটি জব্দ তালিকার মাধ্যমে জব্দ করা হয়।
এজাহারে আরও বলা হয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তি নিজের নাম-ঠিকানা জানালেও চাকুটি তাঁর কাছে রাখার বিষয়ে সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। পুলিশের দাবি, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে তিনি চাকুটি নিজের হেফাজতে রেখেছিলেন।
এ ঘটনায় ধুনট থানায় The Arms Act, 1878-এর ১৯(ফ) ধারায় মামলা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের দাবি, ১৪টি মামলা রয়েছে
এজাহারে পুলিশের সিডিএমএস যাচাইয়ের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, মাসুদ রানার বিরুদ্ধে ধুনট থানায় বিভিন্ন সময়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, বিশেষ ক্ষমতা আইন ও দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় মোট ১৪টি মামলা বা এফআইআর থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।
পুলিশের নথিতে তাঁর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর বিভিন্ন ধারার পাশাপাশি দণ্ডবিধির ৪৫৪, ৩৮২, ৪১১, ৪৪৭, ৩৮৫, ৩৭৯, ৫০৬, ৩২৬ ও ৩০৭ ধারায় মামলা থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া ১৯৯০ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন এবং ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের বিভিন্ন ধারায়ও তাঁর বিরুদ্ধে মামলা থাকার তথ্য এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।
তবে এসব মামলার কোনোটিতে মাসুদ রানা আদালতে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন কি না, সে বিষয়ে এজাহারে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, উদ্ধার করা বার্মিজ চাকুটি মামলার আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। সোমবার সকালে তাঁকে বগুড়ার আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালতের নির্দেশে তাঁকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

