এম,এ রাশেদ,স্টাফ রিপোর্টারঃ বগুড়ার ধুনট উপজেলায় অভিযান চালিয়ে ২ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় ফজলুল হক (৩৪) ও সোহরাব হোসেন (৪৪) নামে দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (৩ আগস্ট) তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করা হয়। এ ঘটনায় ধুনট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত রোববার (২ আগস্ট) রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে ধুনট পৌরসভার চরধুনট এলাকার ইছামতি সেতুর ওপর বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় মো. ফজলুল হককে আটক করা হয়। পরে তার দেহ তল্লাশি করে চারটি পুরিয়ায় মোট ২ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করা হয়েছে বলে পুলিশের দাবি।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া আলামতের একটি অংশ রাসায়নিক পরীক্ষার জন্য সংরক্ষণ করা হয়েছে এবং অবশিষ্ট অংশ মামলার আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়েছে। পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার পর তা মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
ধুনট থানায় দায়ের করা এফআইআরের তথ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ফজলুল হক দাবি করেন, উদ্ধার হওয়া হেরোইন তিনি ধুনট সদরপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. সোহরাব হোসেনের কাছ থেকে সংগ্রহ করেছেন। ওই তথ্যের ভিত্তিতে রাতেই পৃথক অভিযান চালিয়ে সোহরাব হোসেনকে তার বাড়ির সামনে থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানায়, তাকে আটক করার সময় তিনি পালানোর চেষ্টা করেছিলেন।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার হওয়া দুই ব্যক্তির কাছ থেকে পরস্পরের সঙ্গে মাদক কেনাবেচা-সংক্রান্ত কিছু তথ্য পাওয়া গেছে বলে তদন্ত নথিতে উল্লেখ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়া ও চলমান তদন্তের মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সাব-ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) মো. নজরুল ইসলাম জানান, ঘটনাটির বিভিন্ন দিক গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। রাসায়নিক পরীক্ষার প্রতিবেদন, সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রেকর্ড যাচাই করে গ্রেপ্তার দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে অতীতে বিভিন্ন থানায় মাদক ও অন্যান্য অপরাধসংক্রান্ত একাধিক মামলা থাকার তথ্য পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে, অভিযানের সময় পালানোর চেষ্টাকালে ফজলুল হক সামান্য আহত হন বলে পুলিশ জানিয়েছে। পরে তাকে ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
পুলিশ বলছে, মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং এ ঘটনায় অন্য কোনো ব্যক্তি জড়িত থাকলে তদন্তের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধেও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একই সঙ্গে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে না পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

