মিন্টু ইসলাম:
বগুড়ার শেরপুর শহরের বাসস্ট্যান্ড এলাকার ফলপট্টিতে মৌসুমী ফল লটকন পাওয়া গেলেও ক্রেতাদের আগ্রহ তুলনামূলক কম দেখা যাচ্ছে। বুধবার (২৪ জুন) সরেজমিনে দেখা যায়, শহরের ঐতিহ্যবাহী শেরশাহ নিউমার্কেটের পূর্ব পাশের গলিতে এক বিক্রেতা প্রতি কেজি লটকন ৬০ টাকা দরে বিক্রি করছেন।

ব্যবসায়ীরা জানান, বিভিন্ন স্থানে লটকন ৮০, ১০০ এমনকি ১২০ টাকা কেজি দরেও বিক্রি হচ্ছে। তবে চাহিদা কম থাকায় অনেক বিক্রেতাকে কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। এছাড়া লটকন বেশিদিন সংরক্ষণ করা যায় না; সাধারণত দুই দিনের বেশি রাখলে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। ফলে বিক্রেতাদের দ্রুত বিক্রি করতে হয়। ক্রেতা আশরাফ আলী বলেন যেকোনো ফল নতুন এলে এটা খেতে হবে তাহলে শরীরের খাদ্য চাহিদার ভিটামিন পুরণ হবে।
লটকন মূলত বর্ষাকালীন একটি জনপ্রিয় ফল। ছোট গোলাকার হলুদ রঙের এই ফলের স্বাদ টক-মিষ্টি। অনেকেই এর রসালো স্বাদের জন্য পছন্দ করলেও কারও কারও কাছে এটি তেমন আকর্ষণীয় নয়।
পুষ্টিগুণের দিক থেকে লটকন অত্যন্ত সমৃদ্ধ। এতে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, আয়রন, ফসফরাস, জিঙ্ক, থায়ামিন, ভিটামিন বি ও সি ছাড়াও প্রোটিন এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। ফলটিতে জলীয় অংশ বেশি থাকায় শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতে সাহায্য করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত লটকন খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। ভিটামিন সি সমৃদ্ধ হওয়ায় এটি সর্দি-কাশি, জ্বরসহ বিভিন্ন সংক্রমণ প্রতিরোধে সহায়ক। পাশাপাশি ত্বক, দাঁত ও হাড় সুস্থ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ত্বকের রুক্ষতা ও বিভিন্ন চর্মরোগ প্রতিরোধেও লটকন উপকারী বলে মনে করা হয়।
এছাড়া লটকনে থাকা ভিটামিন বি বেরিবেরি রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে এবং চোখের রক্তনালীর কার্যক্ষমতা উন্নত করতে সাহায্য করে। পুষ্টিবিদদের মতে, প্রতিদিন দুই থেকে তিনটি লটকন খেলে শরীরের প্রয়োজনীয় ভিটামিন সি-এর একটি উল্লেখযোগ্য অংশ পূরণ হতে পারে।
চাহিদা কম থাকলেও স্বাস্থ্যগুণে ভরপুর এই মৌসুমী ফলটি এখনও অনেক ক্রেতার পছন্দের তালিকায় রয়েছে।

