এম,এ রাশেদ,স্টাফ রিপোর্টারঃ বগুড়ায় পৃথক চারটি অভিযান চালিয়ে চাঞ্চল্যকর দুটি হত্যা মামলার এজাহারনামীয় ছয় পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। গ্রেপ্তারদের মধ্যে বগুড়া সদর থানার আতিকুর রহমান সাগর হত্যা মামলার চারজন এবং সারিয়াকান্দি থানার মোসলেম উদ্দিন হত্যা মামলার দুজন রয়েছেন।
র্যাব-১২-এর সিপিএসসি বগুড়া ক্যাম্প ও র্যাব-১৩-এর সিপিসি-৩ গাইবান্ধার যৌথ দল মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) ভোররাতে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার পৃথক এলাকায় অভিযান চালিয়ে আতিকুর রহমান সাগর হত্যা মামলার চার আসামিকে গ্রেপ্তার করে। একই রাতে বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার শিমলা বাজার ও কুন্দারহাট বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে মোসলেম উদ্দিন হত্যা মামলার আরও দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব সূত্র জানায়, বগুড়া সদর থানার মামলা নং-১০০/৬১৭, তারিখ ২৪ জুলাই ২০২৬, ধারা ১৪৩/৩৪১/৩০২/৫০৬(২)/১১৪/৩৪, পেনাল কোড, ১৮৬০-এর মামলাটি আতিকুর রহমান সাগর হত্যার ঘটনায় দায়ের করা হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, পূর্বশত্রুতার জের ধরে গত ২৩ জুলাই রাত আনুমানিক ২টার দিকে বগুড়া সদর উপজেলার শাখারিয়া ইউনিয়নের চালিতাবাড়ী এলাকায় আতিকুর রহমান সাগরের ওপর হামলা চালানো হয়। এ সময় হামলাকারীরা দেশীয় অস্ত্র, রামদা, লোহার রড, চাপাতি, ধারালো চাকু ও এসএস পাইপ ব্যবহার করে তাকে গুরুতর আহত করে বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।
একপর্যায়ে হামলাকারীদের হাত থেকে রক্ষা পেতে আতিকুর স্থানীয় একটি বাড়ির আঙিনায় আশ্রয় নিয়ে চিৎকার করতে থাকেন। তখন হামলাকারীরা তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও ছুরিকাঘাত করে গুরুতর জখম করে বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় তাকে বৈদ্যুতিক শক দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে।
পরে স্বজন ও স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় আতিকুর রহমান সাগরকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় বগুড়া সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।
র্যাব-১২ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারে, মামলার এজাহারনামীয় কয়েকজন আসামি গ্রেপ্তার এড়াতে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আত্মগোপন করে আছেন। তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব-১২ সিপিএসসি বগুড়া ও র্যাব-১৩ সিপিসি-৩ গাইবান্ধার সমন্বয়ে একটি যৌথ দল অভিযান শুরু করে।
মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ১টা ৩৫ মিনিটে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার ভগরিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে আতিকুর রহমান সাগর হত্যা মামলার এজাহারনামীয় ১ নম্বর পলাতক আসামি মো. জিলহাজ মন্ডল (৪৬) ও ১৬ নম্বর পলাতক আসামি মো. আরিফ প্রাং (৩৫)-কে গ্রেপ্তার করা হয়।
এরপর রাত আনুমানিক ২টা ২০ মিনিটে গোবিন্দগঞ্জের খানাবাড়ী এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে একই মামলার ৮ নম্বর পলাতক আসামি মো. লিটন মিয়া (৩৫) ও ১৩ নম্বর পলাতক আসামি মো. রব্বানী (২৫)-কে গ্রেপ্তার করে র্যাব।
গ্রেপ্তার চার আসামিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বগুড়া সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে র্যাব জানিয়েছে।
মোসলেম উদ্দিন হত্যা মামলায় আরও দুজন গ্রেপ্তার
এদিকে, একই রাতে বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার শিমলা বাজার ও কুন্দারহাট বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে সারিয়াকান্দি থানার মোসলেম উদ্দিন হত্যা মামলার এজাহারনামীয় দুই পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
গ্রেপ্তাররা হলেন- সারিয়াকান্দি থানার এফআইআর নং-৬, তারিখ ৪ আগস্ট ২০২৬, জিআর নং-১৯২, ধারা ১৪৩/৩৪১/৩২৫/৩২৬/৩০২/১১৪/৩৪, পেনাল কোড, ১৮৬০-এর মামলার ১১ নম্বর পলাতক আসামি মো. রহিদুল সরকার (৪৭) এবং ১৩ নম্বর পলাতক আসামি মো. শাহজাহান সরকার (৪০)।
র্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গ্রেপ্তার দুই আসামিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বগুড়া জেলার সারিয়াকান্দি থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
র্যাব-১২ সিপিএসসি বগুড়ার কর্মকর্তারা জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং হত্যা, মাদক, ছিনতাই, অপহরণসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। অপরাধ দমনে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও আরও জোরদার করা হবে।
র্যাব কর্মকর্তাদের ভাষ্য, অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাবোধ আরও জোরদার করাই এসব অভিযানের অন্যতম লক্ষ্য।

