এম,এ রাশেদ,স্টাফ রিপোর্টারঃ বগুড়া সদর উপজেলার সাবগ্রাম ইউনিয়নের চক আলম মৌজার ৫ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় উর্বর ফসলি জমি নষ্ট করে পুকুর খননের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক প্রভাবশালী ব্যক্তি রাজ্জাকের বিরুদ্ধে। বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কৃষি কাজে ব্যবহৃত উর্বর জমিতে প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন ছাড়াই পুকুর খননের কাজ চলছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি এলাকায় প্রভাবশালী হওয়ায় অনেকেই প্রকাশ্যে তার বিরুদ্ধে কথা বলতে সাহস পাচ্ছেন না বলেও জানান তারা।
এলাকাবাসীর দাবি, পুকুর খননের সময় জমির ওপরের উর্বর মাটির স্তর বা ‘টপসয়েল’ কেটে ফেলা হচ্ছে। কৃষিবিদদের মতে, টপসয়েল জমির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও উর্বর অংশ। এই স্তর অপসারণের ফলে জমির উৎপাদনক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেতে পারে। ভবিষ্যতে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি জমি দীর্ঘমেয়াদে অনাবাদি হয়ে পড়ার আশঙ্কাও রয়েছে। এছাড়া বর্ষা মৌসুমে মাটিক্ষয় বৃদ্ধি, জলাবদ্ধতা সৃষ্টি এবং স্থানীয় পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত রাজ্জাকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফসলি জমিতে পুকুর খননের জন্য কোনো অনুমতি নিয়েছেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, “কার কাছ থেকে অনুমতি নেব?”
অন্যদিকে, স্থানীয়দের অভিযোগ, তাদের আপত্তি ও অনুরোধ উপেক্ষা করে জোরপূর্বকভাবে খননকাজ অব্যাহত রাখা হয়েছে। এতে এলাকার কৃষি উৎপাদন ও খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা। দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।
বিষয়টি নিয়ে বগুড়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)-এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আপনার কাছ থেকেই প্রথম বিষয়টি শুনলাম। অভিযোগটি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করবে এবং কৃষিজমি রক্ষায় প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। তাদের মতে, নির্বিচারে ফসলি জমি নষ্ট করে পুকুর খনন চলতে থাকলে কৃষি উৎপাদন কমে যাওয়ার পাশাপাশি পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

