এম,এ রাশেদ,স্টাফ রিপোর্টারঃ মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের কার্যকর পুনর্বাসন, সমাজে পুনঃএকীভূতকরণ এবং মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে বগুড়ায় “মাদকাসক্ত ব্যক্তির পুনর্বাসনে নিরাময় কেন্দ্রের করণীয়” শীর্ষক এক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট ২০২৬) মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি), জেলা কার্যালয়, বগুড়ার আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বগুড়া সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এম.আর ইসলাম স্বাধীন। মুখ্য আলোচক ছিলেন বগুড়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আতিকুর রহমান বাদল। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. জিললুর রহমান।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, বগুড়ার পরিদর্শক মো. সামসুল আলম এবং জেলার আওতাধীন লাইসেন্সপ্রাপ্ত বেসরকারি মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রগুলোর পরিচালক ও প্রতিনিধিরা।
সেমিনারে বক্তারা বলেন, মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন, মানসিক সহায়তা, পরিবারভিত্তিক কাউন্সেলিং এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করা গেলে পুনরায় মাদকে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। এ ক্ষেত্রে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভায় সরকারের ঘোষিত মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত ভূমিকার আহ্বান জানানো হয়।
প্রধান অতিথি এম আর ইসলাম স্বাধীন বেসরকারি মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রগুলোর সেবার মানোন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের পাশাপাশি কর্মদক্ষতা ও সেবার মানের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানগুলোকে ক্যাটাগরিভিত্তিক মূল্যায়ন ও পুরস্কৃত করার প্রস্তাব দেন। তিনি আরও বলেন, চিকিৎসার পর সুস্থ হয়ে ওঠা ব্যক্তিদের আত্মনির্ভরশীল করে তুলতে কারিগরি ও দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে বগুড়া সিটি করপোরেশন ও বগুড়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি যৌথভাবে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদানে সম্মতি প্রকাশ করে। বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের সমাজে পুনর্বাসন আরও কার্যকর হবে এবং মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

