এম,এ রাশেদ,স্টাফ রিপোর্টারঃ বগুড়ার ধুনট উপজেলার কালেরপাড়া ইউনিয়নের উত্তর কান্তনগর (মাদারদহপাড়া) এলাকায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এক নারীকে বিবস্ত্র করে শ্লীলতাহানির চেষ্টা, স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ এনে ধুনট থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন মো. সাইফুল ইসলাম।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (৪ আগস্ট ২০২৬) দুপুর সাড়ে ১টার দিকে উত্তর কান্তনগর এলাকায় সরকারি ইটের পাকা সড়কের ওপর কয়েকজন ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অবস্থান করছিলেন। সাইফুল ইসলাম কান্তনগর বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে সেখানে পৌঁছালে তাকে ধাওয়া করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রাণভয়ে সাইফুল ইসলাম দৌড়ে আত্মরক্ষার চেষ্টা করলে তার চিৎকারে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে এগিয়ে আসেন। অভিযোগ অনুযায়ী, এ সময় তার বড় ভাবী মোছা. ছানোয়ারা খাতুন ও স্ত্রী মোছা. দুলালী খাতুনকে লক্ষ্য করেও হামলা চালানো হয়।
সাইফুল ইসলামের অভিযোগ, হামলার সময় এক ব্যক্তি লোহার রড দিয়ে ছানোয়ারা খাতুনের মাথায় আঘাতের চেষ্টা করেন। তবে আঘাত লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে তার বাম উরুতে লাগে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলাকারীরা তার স্ত্রী দুলালী খাতুনের চুল ধরে টানাহেঁচড়া করেন এবং পরনের কাপড় ছিঁড়ে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে তিনি মাটিতে পড়ে গেলে তার গলায় থাকা প্রায় ৬ আনা ওজনের স্বর্ণের চেইন, যার আনুমানিক মূল্য ৯০ হাজার টাকা, ছিনিয়ে নেওয়া হয়। একই সময় ছানোয়ারা খাতুনের কানে থাকা প্রায় ৩ আনা ওজনের স্বর্ণের দুলও নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।
এছাড়া সাইফুল ইসলাম অভিযোগ করেন, তাকে বাঁশের লাঠি, কাঠের বাটামসহ দেশীয় অস্ত্র দিয়ে মারধর করা হয়। এতে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ও রক্তাক্ত জখম হয়। পরে তিনি মাটিতে পড়ে গেলে তার গেঞ্জির পকেটে থাকা ১১ হাজার ৭০০ টাকা নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক ছানোয়ারা খাতুন ও দুলালী খাতুনকে ভর্তি করেন এবং সাইফুল ইসলামকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিবাদীপক্ষের রওশন। তিনি বলেন, “আমরা তাদের কাউকে মারপিট করিনি। তারা আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দিয়েছে। বরং বাদীপক্ষের লোকজন দলবদ্ধ হয়ে আমাদের বাড়িতে প্রবেশ করে হামলা চালিয়ে আমাদের পরিবারের সদস্যদের আহত করেছে।”
রওশন আরও দাবি করেন, বাদীপক্ষের হামলায় শম্পা খাতুন ও শিল্পী খাতুন আহত হয়ে বর্তমানে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এদিকে, উভয় পক্ষের অভিযোগের পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে ধুনট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, “লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি সরেজমিনে তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

